মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সের অবুঝ শিশু রোহান। বাবার আরোগ্যের জন্য হাত তুলে দোয়া করছে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সৃষ্টিকর্তা যেন তার বাবাকে সুস্থ করে দেন। দুরারোগ্য ব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত তরুণ সাংবাদিক ও লেখক শেখ রাসেলের প্রতি এ শিশু সন্তানের মায়াভরা আকুতি যেন পিতা–পুত্রের অটুট বন্ধনের অনন্য দৃষ্টান্ত।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান শেখ রাসেল লেখালেখির জগতে ফখরুদ্দীন রাসেল নামে বেশি পরিচিত। আঞ্চলিক ইতিহাস ও সাহিত্যচর্চায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তিনি একজন উজ্জ্বল নাম। ২০১০ সালের দিকে সাংবাদিকতা ও বিক্রমপুরের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা শুরু করেন তিনি। ছাত্র জীবন থেকেই জড়িত ছিলেন যুব রেড ক্রিসেন্টসহ নানা মানবিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে।
তিনি লিখেছেন ছোটগল্প ও কবিতা, গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ, আর বিক্রমপুরের ইতিহাস নিয়ে তার প্রায় এক হাজার ফিচার প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রপত্রিকায়। নিয়মিত লেখালেখি করেছেন সাপ্তাহিক বিক্রমপুর চিত্র, মাসিক বিক্রমপুর, আমার বিক্রমপুর,মুন্সীগঞ্জ টাইমস, মুন্সীগঞ্জের খবর,মুন্সীগঞ্জের বার্তা, বাংলার বর্ণমালাও দ্যা নিউজ স্টেশন পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেছেন।
২০২৩ সালের শেষের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রাসেল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে তার মেরুদণ্ডে ক্যান্সার। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইতোমধ্যে ১৩টি রেডিওথেরাপি ও সাতটি কেমোথেরাপি সম্পন্ন করেছেন। চিকিৎসকদের মতে, আরও পাঁচটি কেমোথেরাপি নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে করা হবে মেরুদণ্ডের জটিল সার্জারি। তবে চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে রাসেলের পরিবার। ইতোমধ্যেই বিক্রি করতে হয়েছে জমিজমা ও হালের গরু। এখন আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় দিশেহারা স্বজনরা।
অন্যদিকে শিশু রোহানের স্বপ্ন বড় হয়ে পাইলট হওয়ার। বাবাকে সুস্থ করার জন্য তার এই আকুতি হৃদয়বানদের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। সকলেই আশা করছেন সমাজের সহৃদয় মানুষদের সহযোগিতা পেলে রাসেল সুস্থ হয়ে আবারো সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও মানবসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন।
পড়ুন : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় পুলিশ সদস্য নিহত


