33.5 C
Dhaka
০৫/০৩/২০২৬, ১৫:৪১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সাংবাদিক বুলু নিজেই সেতু থেকে ঝাঁপ দেন: নৌ পুলিশ

সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলু খুলনার খানজাহান আলী (রূপসা) সেতু থেকে স্বেচ্ছায় ঝাঁপ দেন। সেতুর উপর থাকা দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা খুলনা নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার পুলিশের পক্ষ সেতুর সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়।

গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় রূপসা সেতুর দুই নম্বর পিলারের পাইলক্যাপের ওপর থেকে থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মৃতদেহটি সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলুর বলে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় বুলুর ভাই আনিসুজ্জামান দুলু নগরীর লবণচরা থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে দেওয়া হয় রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে।

নৌ পুলিশ খুলনা অঞ্চলের সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, মামলা তদন্তকালে রূপসা সেতুর উপর থাকা দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাংবাদিক বুলু ৩১ আগস্ট দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নিজেই সেতুর উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিচে পড়েন। এ সময় নদীতে না পড়ে সরাসরি তিনি কংক্রিটের পাইলক্যাপের ওপর পড়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু থেকে পড়ায় তাঁর চোয়াল, হাত ও পা ভেঙে যায়। ইতোমধ্যে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সাংবাদিক বুলু দৈনিক বঙ্গবাণী, আজকের কাগজ, চ্যানেল ওয়ান, ইউএনবি, দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ ও দৈনিক প্রবাহসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। তিনি খুলনা প্রেসক্লাব ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য। পরিবারের সদস্যরা জানান, বুলুর স্ত্রী এলিজা পারভীন লিজা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। গত ১১ মে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। এর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বুলু। পরে তানিয়া সুলতানা নামে এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি। আর্থিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও মনোমালিন্য চলছিল তাঁর।

পিবিআই খুলনার পরিদর্শক কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, গত ৩০ জুলাই সাংবাদিক বুলুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৩ নম্বর আদালতে মামলা করেন তানিয়া সুলতানা। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ২৬ আগস্ট তানিয়া পিবিআই কার্যালয়ে এসে দুজনের মধ্যে মীমাংসার আপসনামা জমা দিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন :খুলনায় জাতীয় পার্টি অফিসে ফের হামলা, ভাংচুর ও সড়ক অবরোধ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন