১৪/০১/২০২৬, ২৩:৩৬ অপরাহ্ণ
20 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ২৩:৩৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

পানেরছড়া বিট কর্মকর্তা ও বন প্রহরীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও পাহাড় কাটার অভিযোগ

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের পানেরছড়া বিট কর্মকর্তা গুলাম মুস্তফা ও বন প্রহরী মোহাম্মদ সিয়াম এর বিরুদ্ধে সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের কাছ থেকে ঘুষ বাণিজ্যসহ পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণের মতো ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩৩ শত একর সংরক্ষিত বনভূমির বড় অংশ ইতোমধ্যেই স্থানীয় প্রভাবশালী ও সিন্ডিকেটের দখলে। তুলাবাগান রেঞ্জের পানেরছড়া বিট সংলগ্ন আঞ্জুঘোনা এলাকায় প্রতিদিন রাত-দিন পাহাড় কেটে ডাম্পার গাড়িতে মাটি সরাচ্ছে একটি চক্র। অথচ বিট কর্মকর্তা গুলাম মুস্তফা রয়েছেন নির্বিকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোয়ারিয়া ঘোনা, লম্বাঘোনা, বনতলা, চিকনছড়ি, বলি পাড়া ও সুইস এলাকায় নিয়মিত পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন এবং গাছ কেটে বিক্রির ঘটনা ঘটছে। এসব কাজে জড়িত একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে ১. নজরুল ইসলাম (লম্বাঘোনা) ২. আবু তাহের (লম্বাঘোনা ও শিয়া পাড়া) ৩. শাহজাহান (বনতলা) ৪. ছৈয়দ নুর (বলি পাড়া) এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন মামলাবাজ আসামি বন বিভাগের জায়গা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে বন প্রহরী সিয়ামের সহায়তায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে বহু ভুক্তভোগীকে। দক্ষিণ মিঠাছড়ি, নিছের পাড়া ও সমিতি পাড়ার অন্তত ৯ জনের নামে নতুন বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়—

* সামাজিক বনায়নের গাছ দরপত্রের আগে গাছে নাম্বার দেওয়ার নামে ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়।

* কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়।

* একই গাছে একাধিক নাম্বার দিয়ে প্রকৃত সংখ্যা গোপন করে কালোবাজারে গাছ বিক্রি করা হয়।

* ঘর নির্মাণে অনুমতি নিতে দিতে হয় ৪০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

এমনকি সম্প্রতি পাহাড় ধসে যুবক সিরাজুল হক ওরফে গুরু নিহত হওয়ার ঘটনাতেও বন প্রহরী সিয়াম ১ লক্ষ টাকার লেনদেন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এসব অনিয়মের কারণে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা গুলাম মুস্তফা বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। বন প্রহরী সিয়াম কী করেছে বা করেনি—সে বিষয়ে আমি অবগত নই। আর সিয়াম ইতোমধ্যে অফিসিয়ালি বদলি হয়েছেন, শিগগিরই তিনি অন্যত্র চলে যাবেন।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বনভূমি রক্ষা এবং দুর্নীতির রোধে প্রশাসন ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: কক্সবাজারে আলোচিত বাঁকখালীতে উচ্ছেদ অভিযান

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন