নরসিংদীর শিবপুরে আপন দুই ভাইকে নৃসংশভাবে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করেছে তাদের চাচা-চাচী ও চাচাতো ভাইয়েরা। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধায় শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের বৈলাব গ্রামে ড্রেন করা নিয়ে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো, বৈলাব গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আসাদুজ্জামান মন্টুর ছেলে অলিউল ইসলাম সোহাগ (৪০) এবং সাজ্জাদুল ইসলাম রানা (৩৩)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উভয় পক্ষই প্রতিবেশী এবং আপন চাচাতো ভাই। বিকেলে একটি টিউবয়েলে পানি নিস্কাসনের ড্রেনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেটি নিয়ে সন্ধায় পূনরায় ঝগড়ায় লিপ্ত হয় দুই পক্ষ। এসময় সার্জেন্ট মন্টুর ছেলে অলিউল ও সাজ্জাদুলের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হমালা চালায় তাদের চাচা মামুন, চাচাতো ভাই দিদারুল এবং বিদুৎ। এসময় ঘটনাস্থলেই ছোট ভাই সাজ্জাদুল ইসলাম রানা নিহত হয়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় বড় ভাই অলিউল ইসলাম সোহাগকে উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের মা শামীমা আক্তার জানান, দিদারদের টিউবওয়েলের পানি আমাদের বাড়ীর উপরে আসে, এতে আমাদের চলাচল করতে সমস্যা হয়। এ নিয়ে আমার ছোট ছেলে রানা তার চাচা মামুনকে জানালে সে ও তার দুই ছেলে দিদার ও বিদ্যুৎ আমার ছোট ছেলে রানাকে ছুরি দিয়ে পেটে গাই মারে। এসময় রানার চিৎকারে আমার অপর ছেলে সোহাগ দৌড়ে আসলে দিদার ও বিদ্যুৎ তাকেও এলোপাতারি লাঠি দিয়ে পিটাতে থাকে। এসময় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। আমার ছেলেদের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
শিবপুর মডলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, সামন্য ড্রেন করার নিয়ে আপন দুই ভাইকে নৃসংশভাবে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করে চাচাতো ভাইয়েরা। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিহতদের মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালে রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি। আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।
পড়ুন :নরসিংদীতে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে পুলিশের হাতে আটক স্ত্রী


