১৩/০২/২০২৬, ২১:০১ অপরাহ্ণ
24 C
Dhaka
১৩/০২/২০২৬, ২১:০১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

অনলাইন জুয়ার নেশায় সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ:বেড়েছে পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহ

মুঠোফোন অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। লোভে পড়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণেরা এই জুয়ায় বেশী আসক্ত হচ্ছে। জুয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে সর্বস্ব হারাতে বসেছে তাদের অনেকে। এ কারণে বেড়েছে পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহ।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সহজে প্রচুর টাকা উপার্জনের লোভে পড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য মানুষ এই জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে। তরুণদের অনেকেই কৌতূহলবশত এই খেলা শুরুর পরেই নেশায় পড়ে যাচ্ছে। প্রথমে লাভবান হয়ে পরবর্তী সময় খোয়াচ্ছে হাজার হাজার টাকা। বিভিন্ন নামের প্রায় ১০ থেকে ১২টির মতো অ্যাপসে সবচেয়ে বেশী জুয়া খেলা হয়। এসব অ্যাপসে ১০ টাকা থেকে শুরু করে যেকোন অঙ্কের টাকা দিয়ে শুরু করা যায়।

এসব অ্যাপসের অধিকাংশই পরিচালনা করা হচ্ছে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। বাংলাদেশে এগুলোর এজেন্ট রয়েছে। তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ বা প্রদান করে থাকে। এজেন্টরা বিদেশী অ্যাপস পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে হাজারে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমিশন পায়। এজেন্টদের মাধ্যমেই বিদেশে টাকা পাচার হয়।

ফরিদঞ্জের একটি প্রাইভেট কলেজের শিক্ষার্থী আবু তালহা বলেন, প্রথমে ৩৬ টাকা বিনিয়োগ করে ৩ হাজার টাকা পাই। ফলে লোভে পড়ে এই খেলায় মারাত্মক আসক্ত হয়ে পড়ি। গত ছয় মাসে এই জুয়ার নেশায় পড়ে বাবার দেয়া মোটরসাইকেল বিক্রি করে দিয়েছি।

ইব্রাহীম নামে এক অটো রিকশা শ্রমিক বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রথমে অংশগ্রহণকারীদের জুয়ায় জিতিয়ে লোভে ফেলা হয়। এরপর নেশা ধরে গেলে একের পর এক টাকা খোয়ানোর ঘটনা ঘটতে থাকে। তখন আর বের হওয়ার পথ থাকে না।
অনলাইন এই জুয়ার কারণে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি।

উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পিংকি আক্তার নামে এক গৃহবধূ বলেন, তাঁর স্বামী অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করতেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হতে হত। কলহ দেখা দেওয়ার একপর্যায়ে আমাদের পারিবারিকভাবে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

এনিয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকরাও সচেনতার লক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে অনলাইন জুয়া কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পড়ুন: সোনারগাঁয়ে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও নির্বাহী পরিচালকের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

দেখুন: নোয়াখালীতে আশ্রয়ণের জরার্জীণ ঘরে আড়াইশ পরিবারের দুর্ভোগ

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন