তীব্র স্রোতময় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী পারি দেয়া স্টিলবডি ট্রলারে করে শরিয়তপুরের চরাঞ্চলে যাতায়াতকারী যাত্রীরা নানা ঝুঁকিতে রয়েছেন। ট্রলার চালকরা বলছেন, প্রতিবার ঘাটে ভিরেই ৭০/৮০ টাকা করে টোল দিয়েও তেমন কোন সুবিধাই তারা পাচ্ছেনা। যাতায়াতকারী যাত্রীরাও নিজেদের অসহায়ত্ব তুলে ধরছেন। টাকা উত্তোলনকারীরা দায়সারাভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের।
২৪ সেপ্টেম্বর বুধবার দিনব্যাপী এক তথ্য অনুসন্ধানে এসব বিষয় উঠে আসে।
সরজমিনে দেখা যায়, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই দিনের পর দিন চাঁদপুরে নদীতে যত্রতত্র চলছে লক্কর ঝক্কর স্টিলবডি ট্রলার। অনুমোদনহীন এইসব ট্রলারের চালকরা কোথাও কোথাও অবৈধভাবে ঘাট তৈরি করে করছেন যাত্রী পারাপারও। এমনি এক ঘাট দেখা গেলো চাঁদপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরানবাজারের মদিনা মসজিদ এলাকায়। এখানে দিনে সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত ট্রলার শরিয়তপুরসহ আশপাশের চরাঞ্চলে নিয়মিত যাত্রীসহ ভাড়ি যানবাহন পারাপার করে যাত্রীদের ঝুঁকিকে ফেলছেন। যদিও ট্রলার চালকরা বলছেন, প্রতিবারে ঘাট ব্যবহারের জন্য একটি মহলকে দিতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। তবুও নূন্যতম ঘাট সেবা তারা পাচ্ছেন না।
ট্রলার চালক বসু গাজী জানান, শরিয়তপুরের মাষ্টারঘাটে সকাল ৭টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পারাপারে প্রতিবারে জনপ্রতি ভাড়া নিচ্ছেন ৪০ টাকা। মোটরসাইকেল কিংবা অন্য ছোট যানবাহনের ওপরও পরিবহন খরছ যোগ করেন। আর ঘাট ব্যবহারে দিচ্ছেন ৮০ টাকা। তবুও কোন সেবা না পাওয়ায় আক্ষেপ তার।
ট্রলার চালক নাদিম জানান, ট্রলার ঘাটে ভিরলেই টাকা দিতে হচ্ছে। প্রতি ট্রলারে শুধুমাত্র যাত্রী ও যানবাহন পারাপারই নয়। একটি বস্তা ভর্তি মালামাল উঠালে তারজন্যও ১৫/২০ টাকা তারা ভাড়া নেন। মদিনা মসজিদ ঘাট হতে চরাঞ্চলের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছাতে সময় লাগে ১ থেকে দেড় ঘন্টা। আর এই সময়ে ট্রলারের যাত্রীদের জন্য কিছু লাইফ জ্যাকেট রাখলেও তারা সেগুলো ব্যবহার করতে না চাওয়ায় কিছুটা ঝুঁকি ত থাকেই। তবে বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় চলন্ত ট্রলারে যাত্রীদের জন্য ত্রিপল টানানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে যাত্রী সাধারণ বলছেন, শরিয়তপুর ও চাঁদপুরে কোন সেতু না থাকায় এক প্রকারের বাধ্য হয়েই উত্তাল নদীতে ঝুঁকি জেনেও স্টিলবডি ট্রলারে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। একটি ট্রলারে ৩০/৪০ জন নিলেই ট্রলার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। অনেক সময় ট্রলার চালকরা ৮০ থেকে ১শ’ জনও ট্রলারে তুলছে। এর পরেও অনেক সময়ই কাঠের ট্রলারে করে অন্যত্র থেকে আচমকা চলন্ত স্টিলবডি ট্রলারে আরও আরও নারী পুরুষসহ যাত্রীদেরও তুলে সবার জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।
সুমাইয়া নামে এক নারী যাত্রী বলেন, চাঁদপুরে মূলত চরাঞ্চলের মানুষ বাজার সদাইসহ নিত্যদিনের কেনাকাটার জন্য বেশি আসা যওয়া করেন। তাই যাত্রীচাপ সামলাতে সেতু নির্মাণ কিংবা দ্রুত কার্যকর বিকল্প পদক্ষেপ দেখতে চাই। এখানে ঘাটে যাত্রী ছাউনি না থাকা, টয়লেট না থাকা, দৃশ্যমান ঘাট না থাকা, ট্রলারগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়াসহ নানা অনিয়মের কিছুই যেনো কেউ দেখছে না। মানুষ পারাপার অনুযায়ী ট্রলারগুলোতে লাইফ জ্যাকেট একে বারেই কম তার ওপর এগুলো ছেড়া ও পুরাতন এবং পরার অনুপযোগী হওয়ায় কেউই এগুলো পড়তে চায় না। দ্রুত বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়ে নজর দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাচ্ছি।
এ বিষয়ে মদিনা মসজিদ ঘাট হতে টোলের নামে দুরত্ব হিসেব করে ট্রলার প্রতি ৭০/৮০ টাকা উঠানো প্রসঙ্গে স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কেউই গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে পুরানবাজার মদিনা মসজিদ ঘাটের দোকানদার মোঃ রুহুল আমিন খান জানান, আমি গেলো ৭/৮ বছর যাবৎ স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশের শাহজাহানের পক্ষে ঘাটের টোলের টাকা তুলছি। পুরো টাকাটা যাচ্ছে চেম্বার অব কমার্সের তহবিলে। এরমধ্যে মালের বাজারের জন্য চলাচল করা ১০টা ট্রলার হতে ৮০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে, স্টেশনঘাট, মাষ্টারঘাট ও মোল্লা বাজার নামে আরও ৩ ঘাটের ৩০ টা ট্রলার হতে ৭০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে, বেপারী বাজারের ১টা ট্রলার ও বাঁশগাড়ি চরের জন্য চলাচল করা আরও ১০টা ট্রলার হতে ৮০ টাকা করে নিচ্ছি। এটাকে অনেকে দেওয়ান ঘাট হিসেবেই বেশি চেনে। এই যে আমি টাকা তুলে দিচ্ছে বিনিময়ে আমি কিছুই পাইনা।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের উপ-পরিচালক বছির আলী খান বলেন, এই মদিনা মসজিদ এলাকার দেওয়ান ঘাট ইজারাবিহীন এবং এখানকার যাতয়াতকারী স্টিলবডি ট্রলার সবই অবৈধ। বছর বছর যে এই ঘাট হতে যে সাড়ে ১৩-১৪ লাখ টাকা টোলের নামে নেয়া হচ্ছে তা থেকে কোন রাজস্বই আমাদের বিআইডব্লিউটিএ দফতর উত্তোলন করেনি। তাই দ্রুত অভিযান করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিচ্ছি।
পড়ুন: চাঁদপুরে ইয়াবা ঢুকাতে এসে আটক রোহিঙ্গা যুবক
এস/


