জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, এনসিপিকে তার নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা’ প্রদান না করার সিদ্ধান্তকে নির্বাচন কমিশনের ‘ব্যর্থতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে আর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না, এ দুটি দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
নির্বাচনকালীন যে সময় ফেব্রুয়ারী বা জানুয়ারী নিয়ে তাঁদের জায়গা থেকে কখনও বিরোধিতা জানানো হইনি বরং তাঁরা জনগণের প্রত্যাশাটা তুলে ধরেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বলেছি যে মৌলিক সংস্কারগুলো যদি না হয়, জুলাই সনদের আইনগত ভিওি শক্ত হওয়ার জন্য এই জুলাই সনদের ভিত্তিতে যদি নির্বাচন না হয় এবং আমরা যে সংস্কারগুলোর কথা বলছি এগুলো সংস্কারগুলো সাস্টেইনেবল হওয়ার জন্য, আইনগত ভিত্তি শক্ত হওয়ার জন্য যে গণপরিষদের নির্বাচন, একই সাথে নির্বাচন উইথ গণ পরিষদ, এই গণ পরিষদ নির্বাচনটা যদি না হয় এত বড় যে গণহত্যা হলো এটার যদি আমরা নন্যুতম বিচারিক প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান রায় না দেখতে পাই, তাহলে আপনি যে সময়সীমাই বলেন না কেন, সেই সময়সীমায় নির্বাচন- এটা জনগণের আকাঙ্খার সাথে প্রতারণা। আমরা আমাদের জায়গা থেকে এটা মনে করি তাই আমাদের স্পষ্ট বার্তা, সকল বিচারিক প্রক্রিয়া এগুলোর রায় ফেব্রুয়ারীর মধ্যে হবে না, কিন্তু দৃশ্যমান কিছু গণহত্যারর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত যে ব্যক্তিরা শেখ হাসিনা কামাল থেকে শুরু করে যারা বাহক ছিল তাদের রায় কার্যকর পূর্ব পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন সরকার জনগণের আখাঙ্কার বিপরীতে যেতে পারে না।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক বলেন, ১৪, ১৮ কিংবা ২৪ শে যারা ‘আ.লীগ ও তাদের ডামি’ প্রার্থী ছিলেন তাঁদের আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের আর কোন অধিকার নেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টে এনসিপির মৌলভীবাজার কমিটির সমন্বয় সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পিআর নিয়ে সারজিস আলম বলেন, যে কয়েকটি রাজনৈতিক দল একসাথে রাজপথে আছেন তাঁদের দাবি উভয় কক্ষে পিআর, আর আমরা উচ্চকক্ষে পিআর এর পক্ষে থাকলেও নিম্নকক্ষে নই। সুতরাং দ্বিমত থাকায় আমরা ওই একই দাবিতে রাজপথে যেতে পারিনি, কিন্তু আমরা মনে করি আগামীতে যে কোন দলের আন্দোলনের দাবির প্রেক্ষিতে, এটা নির্ধারিত হবে আমরা কাদের সাথে আমাদের আন্দোলনটা চালিয়ে যাব, যুক্তরার্ষ্ট্রে আওয়ামী লীগের হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দানকারীদের সফরের সময় সরকারের আর ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল, যা সরকার নেয়নি, এ দায় সরকারকে স্বীকার করতে হবে।
এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক এহতেশাম হক, যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাস, মৌলভীবাজার এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক ফাহাদ আলম, যুগ্ন সমন্বয়ক এহসান জাকারিয়াসহ জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা ও উপজেলা কমিটির সাথে দলের নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘসময় সভা করেন সারজিস।
পড়ুন : শাপলা প্রতীক কেন দেয়া হবে না, এ নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা নয় : সিইসি


