পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক উত্তম কুমার সাহাকে সদস্য করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান বিন মোহাম্মদ আলীর স্বাক্ষরে গঠিত এ কমিটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ২৯ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহ্বায়ক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু জাফরকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যবিশিষ্ট এ্যাডহক কমিটি অনুমোদন করা হয়। এ সময় কমিটিতে উত্তম কুমার সাহার নামও যুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে উত্তম কুমার সাহা বলেন, “আমাকে কমিটির সদস্য রাখা হয়েছে শুনেছি, তবে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।”
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ আহম্মেদ অভিযোগ করে বলেন, “ইউএনও কাউকে না জানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে কমিটিতে জায়গা দিয়েছেন।” একই সুরে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলী হোসেন বলেন, “এভাবে আওয়ামী লীগের পদধারী দের কমিটিতে রাখলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে আমরা এর প্রতিবাদ জানাই অবিলম্বে তাকে কমিটিকে থেকে অপসারণ করা হোক।”
এ প্রসঙ্গে ইউএনও হাসান বিন মোহাম্মদ আলী জানান, “আমার যোগদানের শুরুতে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। উত্তম কুমার সাহা আওয়ামী লীগের নেতা তা জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” তবে কমিটি অনুমোদনের প্রায় এক বছর হলেও এখনো অপসারণের মতো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিতর্কিত ঘটনার জেরে ইউএনও হাসান বিন মোহাম্মদ আলীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে একই বছরের শেষ দিকে তিনি ইন্দুরকানী উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগ দেন। সম্প্রতি তাকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হলেও এখনো দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এখনো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠদের নিয়মিত আনাগোনা দেখা যায়।
পড়ুন: পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের উন্নয়নে ছাত্রশিবিরের ১৫ দফা দাবীতে স্মারকলিপি
এস/


