বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, ক্যাম্প ইনচার্জ গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পুলিশ হেফাজতে আব্দুল্লাহ (২৭) নামে এক যুবককে আটকে রেখে নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলার ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ঘেরাও করলে প্রশাসন বন্ধ ঘোষণা করে এবং সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত আব্দুল্লাহ বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে। এই ঘটনায় ক্যাম্প ইনচার্জ পুলিশের উপপরিদর্শক মহিম উদ্দিনকে সাময়িক বহিষ্কারের পর গ্রেফতার করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছলিমগঞ্জের তবি মিয়ার বাড়িতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাত চোর তার বাড়ি থেকে নগদ ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এঘটনায় তবি মিয়ার আত্মীয় নবীনগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তবি মিয়া, আল আমিন ও আয়নালসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫জন আব্দুল্লাহকে চোর সন্দেহে ছলিমগঞ্জ বাজারের সিএনজিস্যান্ডের সামনে আটক করে। পরে তারা প্রথমে আব্দুল্লাহকে রাস্তায় ও পরে বাড়িতে নিয়ে গণপিটুনি দেন। তবি মিয়ার বাড়িতে আটকে রেখে আব্দুল্লাহকে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তারা প্লাস দিয়ে আব্দুল্লাহ’র হাতে ও কপালের চামড়া উঠিয়ে ফেলে। পরে আব্দুল্লাহকে সলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মাহিম উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করে। স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আব্দুল্লাহ পুলিশ ক্যাম্পে নেয়া হয়। মাহিম উদ্দিন ও তার লোকজন বিষয়টি কাউকে কিছু না জানিয়ে আব্দুল্লাহকে অবৈধভাবে ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন করে। মিথ্যা চুরির অপবাদে পুলিশের নির্যাতনে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে আব্দুল্লাহ। গতকাল রোববার বিকেলে ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা আব্দুল্লাহকে ছলিমগঞ্জ অলিউর রহমান (প্রাঃ)হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা  দেন। শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহ’র মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সাকিল মিয়া বাদী হয়ে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছলিমগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মহিম উদ্দিন সহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার ছলিমগঞ্জ ক্যাম্প ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় প্রশাসন ফাঁড়িটি বন্ধ করে দেয় এবং সেনা মোতায়েন করে।

নিহতের চাচাতো ভাই শাকিল মিয়া বলেন, মিথ্যা চুরির অভিযোগে আমার ভাইকে গণপিটুনি দিয়েছে। আমার ভাইয়ের পায়ে সুই ঢুকিয়েছে। প্লাস দিয়ে কপালে চামড়া তুলেছে। ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রেখে আমার ভাইকে নির্যাতন করেছে পুলিশ।

এই বিষয়ে জানতে রোববার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত নবীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলামের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ওবায়দুর রহমান জানান, এই ঘটনায় ক্যাম্প ইনচার্জকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডোবায় মিললো ভাই-বোনের মরদেহ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন