দেশের অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহে আনন্দ-বেদনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহদ উৎসব শারদীয় দুর্গা পুজা শেষ হলো।
আগামী বছর ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ভক্তরা অশ্রুসজল নয়নে আজ (বৃহস্পতিবার) দূর্গতিনাশিনী মা দুর্গাকে বিদায় দিয়েছেন। পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের শেষ দিনে মন্ডপে মন্ডপে দশমীর বিহিত পূজা অনুষ্ঠানের পর দর্পন বিসর্জন এবং শান্তি জল গ্রহনের মধ্য দিয়ে শাস্ত্রীয় বিসর্জন।
আর্যধর্ম জ্ঞান প্রদায়িনী সভার উদ্যোগে নগরীর দুর্গাবাড়ি মন্দির থেকে বিকেলে বিজয়ার শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভা যাত্রায় জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
দেবী দূর্গার শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে প্রতি বছর শরতের মতো এবারও মহলয়ার দিন কন্যা রূপে মর্তলোকে এসেছিলেন সঙ্গে এসেছেন তার দুই মেয়ে লক্ষী, সরস্বতী আর দুই ছেলে গনেশ ও কার্তিক। মহলয়া থেকে শুরু হয়ে মাঝে কয়েকটা দিন ভক্ত, পূজারী ও দর্শনার্থীরা মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন।
সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, এবার জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা গজে (হাতি) চড়ে স্ক্যালোক থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসেন; যার ফল হিসেবে বসুন্ধরা শস্যপূর্ণা হয়ে উঠবে। দেবী স্বর্গালোকে ফিরে যাবেন দোলায় (পালকি) চড়ে; যার ফল হচ্ছে মড়ক আর এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ ও মহামারির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে।
প্রতিমা বিসর্জন যাত্রায় নেচে-গেয়ে নানা বয়সের ভক্তরা এসময় দেবী দুর্গাকে শংখ উলুধ্বনি আর ঢোলের তালেতালে বিদায় জানান।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারীঘাটে বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদ উপস্থিত থেকে প্রতিমা বিসর্জন প্রত্যক্ষ করেন। ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় পারিবারিক ও সার্বজনীন মিলিয়ে ৭৮১টি মন্ডপে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে নগরীরতে ৯০টি মন্ডপে দুর্গাপুজা হয়েছে।
প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারীঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়, হাজারো পূন্যার্থী ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে তাদের দূর্গতিনাশিনী মা দূর্গা দেবীকে বিদায় জানিয়েছেন।
পড়ুন : স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে ময়মনসিংহে ৭ জেলার বিচারকদের মতবিনিময়


