সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। পাহাড়ি নদী যাদুকাটা, বিশ্ব ঐতিহ্যের রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরসহ জীববৈচিত্র্যের অফুরন্ত সম্ভার এই জনপদে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাছ ধরা,বালু উত্তোলন,বন ও জলাভূমি দখল প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।এই পরিস্থিতিতে বদলে যাচ্ছে চিত্র।
যোগদানের পর থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় একের পর এক অভিযান চালাচ্ছেন। তাঁর পদক্ষেপে অবৈধ দখল ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আসছে, আর এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মনে।প্রতিবছর হাজারো পাখির আগমন ঘটে টাঙ্গুয়ার হাওরে। কিন্তু অবৈধ জাল ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার কারণে হুমকির মুখে পড়েছিল এ হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ। ইউএনও’র নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় বন্ধ হচ্ছে এসব অনিয়ম। ধীরে ধীরে ফিরছে জীববৈচিত্র্যের প্রাণচাঞ্চল্য।
তাহিরপুর সীমান্তের যাদুকাটা নদী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের শিকার। এতে নদীর প্রবাহ ও স্থানীয় পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছিল। ইউএনও মানিকের কঠোর পদক্ষেপে এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এই চক্র।অতীতে দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তাকে নিয়ে সমালোচনা থাকলেও বর্তমান ইউএনওকে ঘিরে নেটিজেনদের প্রশংসার জোয়ার বইছে।স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান লিমন লিখেছেন— “স্যার, আপনার হাত ধরেই তাহিরপুর উপজেলা উন্নয়নের রোল মডেল হবে।”জয়নাল আবেদীন দুর্জয় বলেন— “স্যার প্রথমে এসে চমক দেখিয়ে দিলেন। আপনার পাশে এলাকাবাসী আছে।”সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী আহম্মদ কবির মন্তব্য করেন— “মন্তব্য কিছুই করলাম না, শুধু বলবো—স্যালুট।”
জনপ্রতিনিধি আলী আহমদ মুরাদ লিখেছেন— “স্বল্প সময়ে তাহিরপুরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আপনার পূর্ণ সফলতা কামনা করছি।”প্রশংসা পেলেও ইউএনও বিনম্র।
তিনি বলেন— “আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, দায়িত্বটুকুই পালন করছি। হাওর এলাকার মৎস্যসম্পদ রক্ষা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন উপজেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।” তাহিরপুরের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ইউএনওর নেওয়া উদ্যোগ ইতোমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রকৃতির সজীবতা ফিরে পাবে পুরো তাহিরপুর উপজেলা, আর এটি হবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সফল উদাহরণ।
পড়ুন :বিজয়া দশমীতে শেষ হলো সুনামগঞ্জের ৪২৪ পূজা মণ্ডপের দুর্গোৎসব


