আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে শিক্ষক সমাজকে সম্মান জানিয়ে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি। তবে এই দিবসের দিনই শিক্ষকদের জন্য এসেছে ‘দুঃসংবাদ’। দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করে মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা বাড়িয়েছে সরকার, এটিকে শিক্ষকরা ‘এক প্রকার তামাশা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যখন বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান চলছিল, তখনই শিক্ষকরা ৫০০ টাকা বাড়ানোর এ পরিপত্র পান। মুহূর্তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।
বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাসে ১,০০০ টাকা বাড়িভাড়া পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন তা বেড়ে দাঁড়াবে ১,৫০০ টাকা। অথচ শিক্ষকরা দাবি করেছিলেন মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া নির্ধারণের, যা অন্তর্বর্তী সরকার মৌখিকভাবে মেনে নিয়েছিল।
এমপিওভুক্ত অনেক শিক্ষকই অভিযোগ করছেন, শিক্ষক দিবসের দিন এমন সিদ্ধান্ত প্রতারণা ও অপমানজনক। তাদের ভাষায়, ‘এটা এক ধরনের নাটকীয়তা, যা সম্মান নয় বরং অপমান।’
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী বলেন, “আগে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, যা পরে প্রাসঙ্গিক ছিল না। তবে সেই প্রস্তাব ধরেই অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে।”
তবে তিনি আরও জানান, শিক্ষা উপদেষ্টা মূল বেতনের ওপর শতাংশ হারে বাড়িভাড়া নির্ধারণে নতুন একটি ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন এবং সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আশাবাদী, অর্থ মন্ত্রণালয় সেটি অনুমোদন করলে ৫০০ টাকা বৃদ্ধির পরিপত্র অটোমেটিক বাতিল হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ২৬,৪৪৭টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক এবং ১ লাখ ৭৭ হাজার কর্মচারী।
বর্তমানে তারা মাসে বাড়িভাড়া বাবদ ১,০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৫০০ টাকা পান। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাড়িভাড়া ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হলেও তা শিক্ষকদের জন্য খুবই অপ্রতুল বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।
পড়ুন : বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ


