কয়েকদিনের অতিবৃষ্টি ও ভারতের ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ খুলে দেওয়ায়, প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। এতে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনীসহ কয়েকটি জেলা প্লাবিত হয়েছে। বানের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে সবকিছু।
টানা বৃষ্টি আর ভারত থেকে আসা ঢলে, গত ৪০ বছরের রেকর্ড ভেঙে ফেনীর মুহুরী নদী বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে প্রায় ৯০টি গ্রাম, পানিবন্দি ২ লাখের বেশি মানুষ। চলতি বছর তৃতীয়বারের মত এই দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।
টানা এক সপ্তাহের ভারি বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায়, পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন নোয়াখালীর ৯ উপজেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ। জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, পথঘাট সব পানির নিচে।
কুমিল্লায় প্রবল বর্ষণের কারণে বিপদসীমায় গোমতী নদীর পানি। জেলায় গত তিনদিনে ২৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গেল ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত হয়ছে ৫৬ মিলিমিটার।
লক্ষ্মীপুরে ভারী বৃষ্টিতে ফের প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। মেঘনার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে উপকূলীয় এলাকার কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়িসহ ফসলি জমি।
গত দুইদিনের অবিরাম বৃষ্টি ও ঢলে মৌলভীবাজার জেলার ৪টি নদীতে আবারও পানি বেড়েছে। কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি বাড়ায় দুশ্চিন্তায় স্থানীয়রা। বৃষ্টিতে ঘোড়ামারা ও ভানুবিল এলাকার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।
হবিগঞ্জেও খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে হাওরে। গত রাত থেকেই নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। আতঙ্কে স্থানীয়রা।


