খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল পরিচালক স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালের ইনডোর বা আউটডোর বিভাগে পরিচালকের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো মিডিয়া প্রতিনিধি প্রবেশ, ছবি ধারণ বা রোগী ও স্বজনদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে পারবেন না। খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (কেসিআরএ) এই নির্দেশনার প্রতি তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের সেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম গণমাধ্যমের নজরদারির বাইরে রাখার এই উদ্যোগ গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যম শুধুমাত্র তথ্য প্রচারের মাধ্যম নয়, এটি জনস্বার্থ রক্ষার শক্তিশালী হাতিয়ার। চিকিৎসাসেবা, ব্যবস্থাপনা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সীমিত করা জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে।
কেসিআরএ মনে করে, হাসপাতালের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। সাংবাদিকরা সবসময় পেশাগত নীতিমালা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। হাসপাতালের কর্মকাণ্ড স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখতেই গণমাধ্যমের উপস্থিতি অপরিহার্য।
কেসিআরএ নেতৃবৃন্দ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে জনস্বার্থ, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছে।
বিবৃতিদাতারা হলেন- এসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন আহমেদ, সহ-সভাপতি নূর হাসান জনি ও শিশির রঞ্জন মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক আহমদ মুসা রঞ্জু, যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূর ও আনিছুর রহমান কবির, কোষাধ্যক্ষ কামরুল হোসেন মনি, দপ্তর সম্পাদক জয়নাল ফরাজী, কার্যনির্বাহী সদস্য বিমল সাহা, ইয়াছিন আরাফাত রুমি ও রকিবুল ইসলাম মতি প্রমুখ।
পড়ুন : খুমেক হাসপাতালে গণমাধ্যম পরিপন্থী আদেশে খুলনা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির নিন্দা ও ক্ষোভ


