খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন নিয়ে পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ দিয়ে পর পর দুটি চিঠি জারিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন খুলনার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। গত ৯ ও ১০ অক্টোবর এ দুটি চিঠি প্রকাশ করা হয়।
সাংবাদিক নেতারা এ ধরণের আদেশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার প্রতি একপ্রকার হুমকি বলে অভিহিত করেন। তারা বলেন, এ আদেশ শুধু সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করবে না, বরং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রবাহও বাধাগ্রস্ত করবে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এছাড়াও তিনি দ্বিতীয় আদেশে সাংবাদিকদের ইথিক্স মেনে ও সময় নির্ধারণ করে সাংবাদিকতা করার জন্য বলেছেন।
তিনি একটি সরকারি হাসপাতালের পরিচালক হয়ে সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার ইথিক্স মেনে চলার অফিস আদেশ দিতে পারেন কি না? সেটাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখা উচিত।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মূলত: এ ধরণের আদেশে জনসম্পৃক্ত হাসপাতালের তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার বা এ ধরণের কর্মকাÐকে নিরুসাহিত করেছেন। যা স্বাধীন মতপ্রকাশ ও তথ্য জানার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হাসপাতাল পরিচালককে ওই অফিস আদেশ প্রত্যাহার ও নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
রবিবার সন্ধ্যায় খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে খুমেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের কর্মকাÐে বিধিনিষেধ বিষয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব দাবি জানিয়েছেন।
খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক। সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।
সভায় বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম হাবিব, খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান মিলটন, ক্লাবের নির্বাহী সদস্য আশরাফুল ইসলাম নূর, ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা, দৈনিক প্রবর্তন পত্রিকার সম্পাদক মো. মোস্তফা সরোয়ার, ক্লাব সদস্য মো. রাশিদুল ইসলাম, আবুল হাসান হিমালয়, মো. হেদায়েত হোসেন মোল্লা, আব্দুর রাজ্জাক রানা, অভিজিৎ পাল ও বেল্লাল হোসেন সজল প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাব সদস্য দেবব্রত রায়, কাজী শামিম আহমেদ, মো. হুমায়ুন কবীর, মো. আমিরুল ইসলাম, শেখ শামসুদ্দীন দোহা, কামরুল হোসেন মনি। এছাাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রফিক আলী, মাশরুর মুর্শেদ, জি এম রাসেল, এস রুহুল আমিন, ওবায়দুর রহমান পলাশ প্রমুখ।
পড়ুন : খুমেক হাসপাতালে গণমাধ্যম পরিপন্থী আদেশে খুলনা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির নিন্দা ও ক্ষোভ


