ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ‘নীরব চাঁদাবাজির’ অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে বেশ কিছুদিন ধরে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের এ কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থায় চাঁদাবাজি বন্ধ ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে উপজেলা জুড়ে মাইকিং শুরু করেছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্দেশে পৌর এলাকা এবং ছয়টি ইউনিয়নে এ মাইকিং কার্যক্রম চালানো হয়।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে একটি কুচক্রী মহল মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় ও নানা ধরনের বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে। তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের নাম ব্যবহার করে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে এবং চাঁদাবাজি বন্ধে মাইকিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মাইকিংয়ে বলা হয়, “প্রিয় আলফাডাঙ্গাবাসী, আমরা জেনেছি, পৌর বাজারসহ আশপাশের এলাকায় বিশেষ করে হিন্দু ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে মামলার আসামি বানানোর হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চলছে। কেউ যেন এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদে না পড়েন।
কেউ যদি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ভয় দেখায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বা সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিন।”
এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, বিএনপি মাইকিংয়ের মাধ্যমে চাঁদাবাজির ঘটনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং জনগণকে সতর্ক করেছে।
আলফাডাঙ্গার পানাইল ইউনাইটেড একাডেমির প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় বিএনপির পরিচয়ে কিছু সুবিধাভোগী চাঁদাবাজি করছে। এতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিএনপি এবং সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, আমরা তা স্বাগত জানাই।”
আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস বলেন, “জনসচেতনতা তৈরির জন্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্দেশে মাইকিং করা হয়েছে। দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে। এ কাজে উপজেলা বিএনপি কোনোভাবেই জড়িত নয়। তাই বিষয়টি স্পষ্ট করতেই আমরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম বলেন, “চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

