বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে রাজশাহীর রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে (আরআরএফ) সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক কারণে তাদেরকে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ শাজাহান স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাদেরকে সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন— জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ ইকবাল বাহার, পুলিশ পরিদর্শক রাকিব হোসেন এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফজলুল হক। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ডিবির ইনচার্জ ইকবাল বাহারের প্রত্যাহার আদেশ বাতিলের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর এক নেতা আগামীকাল বৃহস্পতিবার এসপি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। অপরদিকে এনসিপির এক নেতাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রত্যাহার আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বগুড়ার পুলিশ সুপার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে বগুড়ার ডিবি পুলিশ ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানা এলাকা থেকে রাজু মুন্সি (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে বগুড়ায় নিয়ে আসে। পরদিন তাকে একটি প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাজু মুন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয়ে গত ২৭ জুলাই বগুড়া শহরের আব্দুল হক নামের এক ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। ওই ব্যবসায়ীর মাদ্রাসাপড়ুয়া সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংক হিসাব নম্বর চান। ব্যবসায়ী নম্বর দিলে তার মোবাইল ফোনে পাঠানো একটি পিন নম্বর সংগ্রহ করে প্রতারক চক্র কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব থেকে ২৭ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৫ টাকা স্থানান্তর করে নেয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ডিবির পুলিশ পরিদর্শক রাকিব হোসেন তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ রাজু মুন্সিকে শনাক্ত করে। এরপর বগুড়ার ডিবি পুলিশ রাজু মুন্সিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাবের সহযোগিতা চায়। রাজু মুন্সিকে গ্রেপ্তারের অনুরোধপত্রে তাকে বগুড়ার একটি ডাকাতি মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বগুড়া ডিবির অনুরোধে র্যাব ফরিদপুর রাজু মুন্সিকে গ্রেপ্তার করলে শনিবার রাতে ডিবি পুলিশের একটি টিম তাকে বগুড়ায় নিয়ে আসে। এরপর আব্দুল হক বাদী হয়ে ১১ অক্টোবর রাজু মুন্সির নামে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
ডিবি পুলিশ রাজু মুন্সিকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সিমকার্ড ও নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এছাড়াও প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া টাকার মধ্যে ব্যাংকে জমা রাখা ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়।
ডিবির ওসি ইকবাল বাহার জানান, “ডাকাতি মামলার অনুরোধপত্র পাঠিয়ে গ্রেপ্তার করা যুবককে প্রতারণা মামলায় চালান দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি তিনজনকে ডিবি থেকে প্রত্যাহার করে আরআরএফে সংযুক্তির আদেশ দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিব হোসেন তদন্ত করে রাজু মুন্সিকে শনাক্ত করেন। প্রতারণার ঘটনায় মামলা হওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে উক্ত প্রতারককে গ্রেপ্তারের জন্য বগুড়া সদর থানার মামলা নং ৮৭, তারিখ ৩০/০৪/২০২৫ খ্রিঃ ধারা ৩৯৫/৩৯৭ অনুযায়ী র্যাব-১২ বগুড়াকে একটি অনুরোধপত্র পাঠানো হয়। উক্ত আসামিকে র্যাব ফরিদপুর গ্রেপ্তার করে ভাঙ্গা থানায় হেফাজতে রাখে। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা রাকিব হোসেন র্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে আসামিকে বগুড়া ডিবিতে নিয়ে আসেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে রাজু মুন্সি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর বাদীর লিখিত এজাহারের প্রেক্ষিতে বগুড়া সদর থানায় মামলা নং ৪৩, তারিখ ১১/১০/২০২৫ ইং, ধারা ৪০৬/৪২০ দণ্ডবিধি অনুযায়ী রুজু হয়।”
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ শাজাহানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পড়ুন : বগুড়ায় প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে আসা কিশোরীকে বাসে ধর্ষণ, চালক গ্রেপ্তার


