শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তাহিরপুর উপজেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত জনসভা ছিল মানুষের ঢল এবং রাজনৈতিক উত্তেজনায় পরিপূর্ণ। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন কৃষকদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুল হক।সভায় সভাপতিত্ব করেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া। উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগরসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি আনিসুল হক বলেন,“ ঐতিহাসিক এই মাঠটি। ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ১৯৯৩ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং গণমানুষের নেতা নজির হোসেন এই মাঠে বক্তব্য দিয়েছেন। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার এই মাঠ থেকে বক্তব্য দিয়েছিলাম। তখন অনেকের ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন,“দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে কেউ যদি জলমহাল দখল, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাদের বিএনপিতে কোনো স্থান থাকবে না। আমি অতীতেও সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”আনিসুল হক কৃষকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন,“আমাদের কৃষক ভাইরা দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আমি সবসময়ই তাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব—ইনশাআল্লাহ। এছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের অবদান সর্বদা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।”
জনসভা শেষে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।মাঠে সমাবেশে অংশ নেওয়া মানুষদের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট যে, জনগণ এই ভোটকে শুধু নির্বাচনের ইভেন্ট হিসেবে নয়, নিজেদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
পড়ুন : সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর তীরে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন


