নোয়াখালী সদর উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নের কাশেম বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল শনিবার কাসেম বাজার জামে মসজিদের ভিতরে ছাত্রশিবির তাদের দলীয় একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করে। এসময় মসজিদের কিছু মুসুল্লি মসজিদের ভিতরে প্রোগ্রামটি করতে বারণ করে। এসময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে পরে তা স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়। কিন্তু রোববার বাদ আসর পুনরায় মসজিদের ভিতরে স্লোগান দিয়ে প্রোগ্রাম করতে যায় ছাত্র শিবির। এসময় স্থানীয় যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাঁধা দিতে গেলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরী হয়। সংঘষে উভয় পক্ষের বিপুল সংখ্যক লোক আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল’সহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়ে।
রোববার রাতে নোয়াখালী শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাবিবুর রহমান আরমান ও শাখা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মাহবুব এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, গতকাল (১৮ অক্টোবর) বাদ আছর নেয়াজপুর ইউনিয়নের কাশেম বাজার মসজিদে ছাত্রশিবির কর্তৃক আয়োজিত কোরআন তালিম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয় যুবদল নেতা ফারুক ও তার সহযোগীরা মসজিদের ভেতরে মব সৃষ্টি করে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং অঙ্গহানির হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে শহর শাখার ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে রোববার সকালে সদর থানায় জিডি করা হয়। পরে রোববার বাদ আসর একই স্থানে ছাত্রশিবির কুরআন তালিম করতে গেলে মসজিদে তালা দিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এসময়ে মসজিদের মধ্যে প্রায় ২ শত ছাত্রশিবিরের জনশক্তি ও সাধারণ মানুষ আটকে পড়ে। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ জন গুরুতর আহত’সহ ৪৫ জন আহত হয়।
নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জিয়াউর রহমান রায়হান ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, শনিবার শিবিরের নেতাকর্মীরা কাশেম বাজার জামে মসজিদের ভিতরে রাজনৈতিক আলোচনা সভা করতে গেলে মসজিদের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা তাদের মসজিদের ভিতরে রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করতে বারণ করে। এনিয়ে তাদের সঙ্গে মুসুল্লিদের বাকবিতন্ডা হয়। পরে তা স্থানীয়ভাবে সমাধান হয়। শনিবার বাদ আছর শিবিরের নেতাকর্মীরা পুনরায় ওই মসজিদে স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গেলে মুসল্লিরা বাধা দেয়। এতে তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে মুসল্লিদের উপর হামলা চালায়। তখন স্থানীয় ছাত্রদল -যুবদল মুসল্লিদের রক্ষা করতে গেলে তাদের উপরও অতর্কিত হামলা চালায় শিবির।
সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি জসিম উদ্দিন বলেন, শিবিরের নেতাকর্মীরা মসজিদের ভিতরে রাজনীতি করতে গয়েছে, সন্ত্রাসী করতে গিয়েছে। তারা মসজিদ নিয়ে ব্যবসা করতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে আমাদের ৩০ থেকে ৩৫জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। প্রশাসনকে বলবো অনতিবিলম্বে তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
পড়ুন : নোয়াখালীতে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ,আহত ৪০
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সন্ধ্যার পর জেলা শহর মাইজদীতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই বিষয়ে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


