কক্সবাজারের রামুতে সহোদর দুই শিশুকে অপহরণ করে হত্যার মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন নারীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান গণি এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মীর মোশারফ হোসেন টিটু।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গর্জনিয়া বড়বিল এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, আবদু শুক্কুর, আলমগীর হোসেন বুলু, মিজানুর রহমান ও মো. শহীদুল্লাহ। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন আবদুল মজিদ বদাইয়া, ফাতেমা খাতুন, রাশেদা খাতুন ও লায়লা বেগম।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকেলে রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার দোকান কর্মচারী মো. ফোরকানের দুই সন্তান—হাসান শাকিল (১০) ও হোসেন কাজল (৮)—বাড়ির পাশে খেলছিল। সে সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীরা পাখির ছানা দেওয়ার প্রলোভনে দুই শিশুকে অপহরণ করে।
অপহরণের পর রাতে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশু দু’জনকে হত্যা করা হয়। দুই দিন পর ১৯ জানুয়ারি রাতে স্থানীয় এক ফলবাগানের পাশে খালের ধারে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরদিন নিহতদের পিতা ফোরকান বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা করেন। পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, মুক্তিপণ না পাওয়ায় দুই শিশুকে হত্যা করে ড্রামে ভরে ফেলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ নয় বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাক্ষ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে আসামি মোকারমা সুলতানা পুতুকে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মীর মোশারফ হোসেন টিটু বলেন, “বিচার দীর্ঘ হলেও আদালত সাক্ষ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন।”
রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন, অন্য আসামিরা পলাতক।
পড়ুন: একটি সাঁকো উদ্বোধনে স্বস্তির হাসি সাত গ্রামের মানুষের
দেখুন: যে শহরের বাসিন্দাদের সবার আছে ব্যক্তিগত বিমান
ইম/


