প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে আগে ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে অল্প পুঁজি নিয়েও সহজ জয় পায় টাইগাররা। ফলে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন মেহেদি মিরাজ। স্পিন সহায়ক উইকেটে রান তুলতে অবশ্য বেশ বেগ পেতে হয়েছে ব্যাটারদের। সৌম্য সরকার-মেহেদি মিরাজরা উইকেটে থিতু হয়েও গিয়ার পরিবর্তন করতে পারেননি। তাতে দুইশ রানও অনেক দূরে মনে হচ্ছিল। তবে শেষদিকে রিশাদ হোসেন রীতিমতো ঝড় তোলেন। ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৪ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি। তাতে দুইশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২১৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে।
টস জিতে ব্যাটিং নেয়া বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করেছে। বাকি ব্যাটাররা যে উইকেটে রান করতে সংগ্রাম করেছেন, সেখানে রিশাদ প্রথম ম্যাচের মতোই ঝড় তুললেন। মাত্র ১৩ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় খেলা তার ৩৯ রানের ইনিংসেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় টাইগাররা।
মিরপুরে এদিন বাংলাদেশের ইনিংসে দুই এন্ড থেকেই স্পিনার দিয়ে বোলিং শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দেখেশুনে খেলে শুরুটা ভালোই করেছিল সাইফ হাসান-সৌম্য সরকারের জুটি। কিন্তু পঞ্চম ওভারে এই জুটি ভাঙেন আকিল হোসেন। ১৬ বলে ৫ রান করে আউট হন সাইফ।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১৯ রান। ভালো খেলতে থাকা তাওহীদ হৃদয় মোতির বলে উইকেট বিসর্জন দেন। ১৯ বলে ১২ রান করেন আগের ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকানো হৃদয়। শান্তও আউট হয়েছেন তুলে মারতে গিয়ে। আথানাজের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ২১ বলে ১৫ রান করেন এই সাবেক অধিনায়ক।
বাকিদের আসা-যাওয়ার মধ্যেই সৌম্য সরকার একপাশে টিকে ছিলেন। করছিলেন টেস্টসুলভ ব্যাটিং। অঙ্কনের সঙ্গে আরেকটা জুটি গড়ে শতরানের দিকে দলকে নিয়ে যাচ্ছিলেন এই বাঁহাতি। ২৮তম ওভারে আথানাজের শিকারে পরিণত হন অঙ্কন, দলের রান তখন ৯৬। ৩৫ বলে ১৭ রান করেন অঙ্কন।
চার মেরে দলীয় শতরান পূর্ণ করেন সৌম্য। ব্যক্তিগত অর্ধশতকেরও কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বসেন সৌম্য। আকিলের বলে ধরা পড়েন পিয়েরির হাতে। তাতেই থামে ৮৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় খেলা ৪৫ রানের ইনিংসটি।
অধিনায়ক মিরাজ আর ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া নাসুম আহমেদ হাল ধরার চেষ্টা করেন। তবে, অতিরক্ষণাত্মক ব্যাটিং করায় ইনিংস থমকে দাঁড়ায়। হাত খোলার চেষ্টা করে একটা ছক্কা মারেন নাসুম। কিন্তু এরপরই আউট হয়ে যান। ২৬ বলে ১৪ রান করে মোতির বলে আউট হন এই স্পিনার।
নুরুল হাসান সোহান হাত খুলে খেলার চেষ্টা করেছেন। ২৪ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ রান করে মোতির তৃতীয় শিকারে পরিণত হন সোহান।
গতদিনের মতো এদিনও টাইগারদের দুইশ করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এদিনও ত্রাতা হয়ে আবির্ভাব হয় রিশাদের। এসেই ঝড় তুললেন। ৩টি বড় ছক্কা ও সমান চারে মাত্র ১৪ বলে ৩৯ রা করে অপরাজিত থাকেন রিশাদ। শেষ ১৩ বলে বাংলাদেশের ইনিংসে ৩৮ রান যোগ হয়। যার পুরোটাই আসে রিশাদের ব্যাট থেকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন গুদাকেশ মোতি। এছাড়া আকিল হোসেন ও আলিক আথানাজে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।


