রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়ন ও আমতলী ইউনিয়ন সীমানায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এতে উভয়পক্ষের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বাঘাইছড়ি উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বার ওয়ার্ডের বড় মাহিল্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
৩০ নম্বার সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অতুল বিহারি চাকমা এসব বিষয় জানিয়েছেন।ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, সারোয়াতলী ইউনিয়ন আর আমতলী ইউনিয়নের মধ্যে একটা সীমানা রয়েছে। এককালে প্রশাসন আর স্থানীয় মুরুব্বিরা মিলে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে, সেই জায়গায়গুলো জায়গাগুলো যেহেতু বির্তকিত। তাই কারো সীমানায় যেন কেউ না ঢুকে। কেউ জায়গায় জমি বিক্রি করলেও যেন উভয় সমাজের সমন্বয়ে যেন বেচা-বিক্রি করা হয়। কিন্তু কিছু পাহাড়ি তাদের জায়গাগুলো চুরি করে বাঙালিদের কাছে বিক্রি করে এবং সেখান থেকে চলে যায়। পরে বাঙালিরা গিয়ে সেসব জায়গায় বসতি করলে ঝামেলা সৃষ্টি হয়।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, গতকালকেও দুটি বাঙালি পরিবার পাহাড়ি পাড়ায় এসে বসতি করে এবং রাতে কে বা কারা তাদের বাধা দেয়। তাদের বাড়িগুলো তছনছ করে দেয়া হয়। তার বিপরীতে রাতে বাঙালিরাও এসে পাহাড়িদের ১টি বাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় আর ৯টি বাড়িতে ভাঙচুর করে জিনিসপত্র, গরু ছাগল লুট করে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি উত্তেজনা অবস্থায় রয়েছে। বিস্তারিত প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এদিকে জানতে চাইলে ৩৭ নম্বর আমতলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দুই ইউনিয়নের মাঝে দুটো গ্রাম আছে; একটা পাহাড়ি আর একটা বাঙালির। দুটো গ্রামের মাঝখানে একটা সীমানা রয়েছে। ২০০৭ সালে বাঘাইছড়ি এক ইউএনও এই সীমানাটি করে দিয়েছিল। তখন একটা নির্দেশনা ছিল যে, কেউ যেন কারো থেকে জায়গায় বেচা-কেনা না করে। কিন্তু ইদানিং ৫/৬ মাস আগে এক পাহাড়ি রাঙামাটি গিয়ে আরেক বাঙালির কাছে প্রায় দেড় একর মতো জায়গা বিক্রি করে। পরে সে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এখন পাহাড়ি সমাজের লোকজন তা মানতেছে না। তারা বলতেছে আগে থেকে একটা নির্দেশনা ছিল। কেউ না জানিয়ে চুরি করে বেচা-বিক্রি করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বাঙালি থাকতে পারবে না। অন্যদিকে বাঙালি পরিবারগুলো যেহেতু তারা জায়গায় কিনে নিয়েছে তারও আর যেতে চাচ্ছে না। এগুলো নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝামেলা।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, গতকাল (সোমবার) রাতে ১০টার দিকে পাহাড়ি লোকজন এসে বাঙালির দুটো ঘর ভাঙচুর করে এবং কয়েকরাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে একটা পাল্টাপাল্টি ঘটনা ঘটে।
জানতে চাইলে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, ঝামেলা হয়েছে কালকে রাতে, একটু গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো আহত, নিহত কিছু হয়নি। থানার ওসি আর চেয়ারম্যানরা মিলে ঘটনাস্থলে গেছেন। তারা এখনো ফিরে আসেনি। জায়গাটা অনেক দুর্গম। ওখানে প্রশাসনের লোকজন পৌঁছানো কঠিন একটা বিষয়। অনেক দুর্গম এলাকা। তারা ফিরলে তখন সর্বশেষ সব কিছু জানতে পারব।
পড়ুন: একটি সাঁকো উদ্বোধনে স্বস্তির হাসি সাত গ্রামের মানুষের
দেখুন: যে শহরের বাসিন্দাদের সবার আছে ব্যক্তিগত বিমান
ইম/


