পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক মাঠে বাউফল প্রেসক্লাবের আয়োজনে শিল্প ও সাংস্কৃতিকে রক্ষায় আয়োজিত মিনি বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে এলাকার মানুষের মনে উৎসাহের আমেজ বিরাজ করছে। এদিকে জনমনে জেগে ওঠা এ উৎসাহ উদ্দীপনাকে বানচাল করতে একটি কুচক্রী মহল এ মিনি বানিজ্য না হওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ মেলায় দেশি শিল্প পন্য ও স্থানীয় কুঠির ও মৃৎ শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন প্রকারের মালামাল- মাটির ক্রোকারিজসহ নানা বাহারি পন্যের সমাহার থাকবে। শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগর দোলা, ভুতের বাড়ি, সাম্পানওয়ালা, হানি চিং, চরকি, স্লিপার,পানির হাউজ, বাচ্চাদের বিভিন্ন প্রকারের খেলনা ব্যবস্থা থাকবে।
বাউফল প্রেসক্লাব সরকারের নিয়মকে মেনে এ মেলার আয়োজন করেন। গুটি কয়েক ব্যক্তির এ বানিজ্য মেলা বন্ধ করার জন্য উঠে পড়ে লাগায় বাউফলের কুটির শিল্প,মাটির শিল্পসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক মহলে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
জানাযায়, আক্টোবর মাসের শেষের দিকে শুরু হয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ মিনি বানিজ মেলা শেষ হবে।
গত ২১অক্টোবর সন্ধ্যায় বাউফল প্রেসক্লাবের আমন্ত্রণ উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভাপতি- সম্পাদককে নিয়ে এ মেলার বিষয়ে এক আলোচনা বৈঠক হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুল জব্বার মৃধা ও পৌর বিনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান হাওলাদার বলেন, সমাজের নৈতিক দায়িত্ব এসব সাংস্কৃতিকে ধরে রাখা। তা না হলে বিলুপ্ত হবে এসব শিল্প।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ ইছাহাক বলেন, সমাজ ও শিক্ষার্থীদের কোন স্বার্থ পরিপন্থী কাজ যেন মেলায় না হয়। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মেনে মেলা পরিচালনা করেন আমরা সাথে আছি । একই ভাষ্য ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের।
বাউফল উপজেলা পরিষদ মসজিদের প্রধান খতিব ও ধানদি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, বাণিজ্য মেলা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে করা নিষেধ নেই, আপনারা সরকারের নিয়ম নীতি মেনে করেন ।
বাউফল উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ মেলায় ধর্ম এবং রাষ্ট্র পরিপন্থী কোন কাজ না হলে আমাদের কোন আপত্তি নেই।
মৃৎশিল্পী বরুন পাল বলেন, তামা কাঁসা,পিতল শেষ করেছে স্টিল। আর এখন মাটির পণ্যের প্রচলন না থাকায় আমরা সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছি। নানা কারণে এখন গ্রামীণ মেলা নেই। আমাদের পৃষ্ঠপোসকতায় করবে সরকার। শত শত মানুষ এ পেশায় জড়িত মেলা বন্ধ হলে তাদের কর্মের চাকা বিকল হলে অভাব দেখা দেবে।
এ বিষয়ে প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন,আমরা সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও ইমাম কমিটিসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বাউফল প্রেসক্লাবে বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে বাণিজ্য মেলা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের সন্মতিতে আয়োজন হলেও একটি মহল গুটিকয়েকজনকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সরকারের নিয়ম মেনেই আয়োজন করছি। এতে শিক্ষার কোন ক্ষতি হবে না। কারণ আমার সন্তান আছে, সেও পড়াশুনা করে।
বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জলিলুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক বরাববরে আবেদন করে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাউন্ডে চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে সকল নিয়ম মেনে এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের স্থানীয় প্রশাসন বিদ্বেষী গুটি কয়েক লোক প্রশাসনসহ বাউফলকে যারা সব সময় অস্থির করে তোলে এমন গুটি কয়েক জনের একটি মহল নানাভাবে প্রভাবিত করে মিথ্যা ও গুজবের আশ্রয় নিয়ে এ বানিজ্য মেলাকে বানচাল করতে চায় । মেলা আয়োজকরা প্যান্ডেলসহ সলক কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সহাশ্রাদ্ধিক দোকানি মাঠে দোকান রেখেছেন যা গ্রামীণ ঐতিহ্যের বিকাশ। মেলা বন্ধের ব্যাপারে বাউফলের বিভিন্ন মহলে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
পড়ুন: নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে জয়পুরহাটে র্যালী ও আলোচনা সভা
দেখুন: ভারত-পাকিস্তানের যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই
ইম/


