১৪/০২/২০২৬, ২৩:২২ অপরাহ্ণ
21 C
Dhaka
১৪/০২/২০২৬, ২৩:২২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

জামিনে থাকা যুবলীগ নেতা সম্রাটকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জামিনে থাকা এই আলোচিত নেতাকে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান এই নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন নিশ্চিত করেছেন, আজ মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং আসামিদের হাজিরার দিন ধার্য ছিল।

এদিন সম্রাটের পক্ষে তার আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারায় (আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা) আবেদন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এই হাজিরা বাতিল চেয়ে একটি আবেদন করলে শুনানি শুরু হয়।

শুনানি চলাকালে বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীর কাছে জানতে চান যে, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বর্তমানে কোথায় আছেন। জবাবে আইনজীবী জানান, সম্রাটের অবস্থান তার জানা নেই। এরপরই বিচারক আদেশ দেন যে, আগামী রবিবার (তারিখ উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই, যেহেতু আজ ২৩ অক্টোবর) আসামি সম্রাটের ব্যক্তিগত উপস্থিতিতেই হাজিরা বাতিলের আবেদনটির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিআইডির উপপরিদর্শক রাশেদুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় দায়ের করেছিলেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কাকরাইলের ‘মেসার্স হিস মুভিজ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন ও কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ পরিচালনা করতেন সম্রাট। এভাবে তিনি ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ‘বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ’ উপার্জন করেন। এসব অর্থের উৎস গোপন করতে তিনি তার সহযোগী এনামুল হক আরমানের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করতেন।

মামলায় পাচার করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্রাট ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ৩৫ বার সিঙ্গাপুরে, তিনবার মালয়েশিয়ায়, দুইবার দুবাইয়ে এবং একবার হংকংয়ে ভ্রমণ করেন। আর তার সহযোগী এনামুল হক আরমান ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সময়ে ২৩ বার সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরবর্তীতে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

পরের দিন ৭ অক্টোবর র‍্যাব বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে আরও দুটি মামলা দায়ের করে। এসব মামলার তদন্ত শেষে ২০২০ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে এই মামলাগুলোর বিচার চলছে ঢাকার বিভিন্ন আদালতে। এছাড়া, জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে, যার বিচারও ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এ বিচারাধীন রয়েছে। দুদক সম্রাটের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছিল।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সেনা কর্মকর্তারা আত্মসমর্পণ করেছেন : আসামিপক্ষের আইনজীবী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন