স্বামীর বেতনের জমায়িত অর্থ ও ব্যাংক লোন নিয়ে তুলে দিয়েছিলেন বড় ভাই সানা উল্লার হাতে। যাতে ক্রয়কৃত জমিতে করবেন স্বপ্নের বাড়ি। আর সেই ভাইটি অর্থ লুট করে পালিয়ে গেছেন ইতালীতে। তাতেই তিনি থেমে যাননি। টাকার হিসেব চাওয়ায় এখন পুলিশ সদস্য স্বামীর বিরুদ্ধে শুরু করেছেন নানা মিথ্যে অভিযোগে হয়রানির পায়তারা।
বুধবার দুপুরে কান্নাজড়িত কন্ঠে এসব কথা গণমাধ্যম কর্মীদের বলছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম মোস্তফার স্ত্রী হামিদা আক্তার।
তার দাবি, বাড়ি করার কথা বলে নেয়া অর্থ ফেরত বা হিসেব দেয়ার কথা বললে নানা তালবাহানা করতে থাকেন সানা উল্লাহ। এক পর্যায়ে অতি গোপনে ইতালীতে পাড়ি জমান বড় ভাই। এরপর বেরিয়ে আসতে থাকে তার প্রতারণা নানা তথ্য। এসব বিষয়ে নিজের পরিবার ও স্বামীর কথা চিন্তা করে সামাজিকভাবে শেষ করার চিন্তা করছিলাম।
কিন্তু বিধিবাম-উল্টো পলাতক বড় ভাই নিজেই তার স্ত্রীকে দিয়ে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে বসলেন পুলিশ সদর দফতরে (যার স্মারক নাম্বার:- নথি/২০২৪/আরও-৫ (পিএসএন্ডআইআই) ১৫/২০২৪/৩৩৬৮, তাং-১৮/০৪/২০২৪ মুলে অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে একদিনের মধ্যে তদন্ত শুরু হয়। প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ কর্মকর্তারা আমার স্বামীর বল প্রয়োগের কোন তথ্য পাননি। কারণ সে তো এলাকায় থাকে না। মূলত টাকার হিসেব চাওয়ায় এসব হয়রানি করা হচ্ছিল। এখানে থেমে যাননি বড় ভাই সানা উল্লাহ। সেই প্রতিবেদন সদর দফতরে গেলে রহস্যজনক কারণে আবারো তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।
তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন তদন্তের দায়িত্ব পান। ঘটনা তার কাছে পরিস্কার করার পর তিনি টেনশন না করতে বলেন। কিন্তু গোপনে রহস্যজনক কারণে তিনি দ্বিতীয় প্রতিবেদনে আমার স্বামী পুলিশের বল প্রয়োগের সত্যতা পেয়েছেন দাবি করে প্রতিবেদন দেন। যা ডাহা মিথ্যে ও রহস্যজনক।
হামিদা আক্তার আরও বলেন, ‘একইভাবে তৃতীয়বারের মতো তদন্তের দায়িত্ব পান ঢাকার মিরপুর জোনের এসি (ক্রাইম) মিজানুর রহমান। তিনিও সিনিয়র অফিসার যেখানে নেগেটিভ দিয়েছে সেখানে আমি পজেটিভ দি কি করে বলে তিনিও মিথ্যে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যার ফলে আমার পরিবারে সংকট নেমে এসেছে। সব হারিয়ে আমার স্বামী এখন মিথ্যে অভিযোগের মুখোমুখি।
হামিদা দাবি করেন-পুলিশ সদর দফতর চাইলে এটা একটু সুষ্ঠু তদন্ত হতে পারে। নিরপেক্ষভাবে। এখন যারা তদন্ত করেছেন তাদের আমার ভাই অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করেছে।
এসব বিষয়ে মিরপুর জোনের এসি (ক্রাইম) মিজানুর রহমানকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘যদি হামিদা আক্তার তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে থাকেন। তাহলে তিনি সদর দফতরে পুনরায় তদন্তের আবেদন করতে পারেন। আমি আমার জায়গা থেকে ক্লিয়ার ছিলাম।
পড়ুন: জামিনে থাকা যুবলীগ নেতা সম্রাটকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
দেখুন: মানুষের রিজিক নষ্ট করে, এ কেমন শত্রুতা!
ইম/


