স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কক্সবাজারে ৩ লক্ষ কেজির বেশি সামুদ্রিক প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।
রবিবার সকালে কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়ায় ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিতে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ও বিদ্যানন্দ কর্তৃপক্ষ।
সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে আয়োজিত এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নিজে। সকালে সমিতিপাড়ার সমুদ্রপাড় এলাকায় অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে প্রায় ৫০০ প্রান্তিক পরিবার ফেলনা প্লাস্টিক জমা দিয়ে খাদ্যদ্রব্য ক্রয়ের সুযোগ পান।
মোট ৩.৫ মেট্রিক টন প্লাস্টিকের বিনিময়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার খাদ্যসামগ্রী পেয়েছেন প্রান্তিক মানুষরা। এই কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও উখিয়া উপজেলা প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যানন্দ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা প্রায় ১৯ প্রকার নিত্যপণ্য নিয়ে অস্থায়ী সুপারশপ সাজিয়েছেন। সেখানে ১ কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে ৬টি ডিম, ১ কেজি প্লাস্টিকে ১ কেজি চাল, ৫ কেজি প্লাস্টিকে ১ লিটার তেল এবং ২ কেজি প্লাস্টিকে ১ কেজি ডাল পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, মাইকিং শুনে এক সপ্তাহ ধরে প্লাস্টিক কুড়িয়ে ১১ কেজি জমিয়েছি। এগুলো দিয়ে আজ প্রায় ৮০০-৯০০ টাকার বাজার করেছি। ভাঙারিতে দিলে ৩০০ টাকার বেশি পেতাম না। এমন বাজার বারবার হলে আমি বিচ থেকে প্লাস্টিক কুড়িয়ে জমিয়ে রাখব।”
জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশকে প্লাস্টিক দূষণের হাত থেকে রক্ষায় আমরা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’ পরিচালনা করছি। এতে যেমন পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে, তেমনি প্রান্তিক মানুষ পাচ্ছে খাদ্য সহায়তা। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা প্রতি বছর কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে চার মাসব্যাপী এই কর্মসূচি চালিয়ে থাকি। এ সময়ের মধ্যে ২ লক্ষ কেজি সামুদ্রিক প্লাস্টিক সংগ্রহ ও শতভাগ রিসাইকেল করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ২৭ হাজার কেজি প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মোট ৩ লক্ষ কেজির বেশি প্লাস্টিক রিসাইকেল করা হয়েছে।”
স্বেচ্ছাসেবক মো. মুবারক বলেন, “প্লাস্টিক ব্যবহার ও সংগ্রহে মানুষের অভ্যাসগত পরিবর্তন ছাড়া দূষণ রোধ সম্ভব নয়। তাই মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আমরা নতুন নতুন উদ্ভাবনী কর্মসূচি নিচ্ছি। সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে সৈকতে ভাস্কর্য প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে।


