32.4 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ১৩:১২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বাতিল হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঁশ বাজার লীজ, দেয়া হবে কাটাতারের বেড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দবাজারের বাঁশপট্টির আলোচিত বন্দোবস্ত বাতিল হচ্ছে। এ নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ কথা জানানো হয়। তবে নদীর পাড় ও বাধ সংলগ্ন ওই স্থানে ট্রাক ষ্ট্যান্ড করা ঠিক হবে কিনা সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হবে। সে পর্যন্ত বাজারের মুল্যবান সরকারী ওই জায়গা কাটাতারের বেড়া দিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রনে রাখা হবে। তাছাড়া জায়গাটি সরকারী ১ নম্বর খাসখতিয়ানের হাটবাজার শ্রেনীর পেরীফেরীভূক্ত হওয়ায় এর শ্রেনী পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হয়। পুরাতন বাঁশ বাজার হিসেবে পরিচিত সরকারী ওই জায়গা ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় হিসেবেই এতোদিন ব্যবহার হয়ে আসছিলো। সম্প্রতি প্রশাসন ৩৩ টি একসনা বন্দোবস্ত মোকদ্দমা মুলে আনন্দবাজারের পুরাতন বাঁশ পট্টির দশমিক ২০৯৪ একর জায়গা বন্দোবস্ত প্রদান করে।

এরপরই বন্দোবস্ত বাতিল করে সেখানে ট্রাক ষ্ট্যান্ড করার দাবী উঠে ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে। ওই জায়গার বন্দোবস্ত বুঝিয়ে দিতে গিয়ে হামলায় আহত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও ভূমি অফিসের ১৫ কর্মচারী। এরআগে বন্দোবস্ত প্রাপ্তদের জায়গাটি বুঝিয়ে দেয়ার সময় এবং বন্দোবস্তপ্রাপ্তরা সেখানে কাজ শুরু করলে হুমকীর অভিযোগ উঠে। ২০,২১ ও ২৩ শে অক্টোবর সংগঠিত এসব ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় দুটি মামলা দেয়া হয়। এসব মামলায় ৬ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয় আরো একশো জনের বেশী লোককে। গত ২৩ অক্টোবর রাতে মামলার এজাহারনামীয় আসামী ব্যবসায়ী জহিরুল হক খোকনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ব্যবসায়ীর মুক্তি ও খাস জায়গার বন্দোবস্ত বাতিলের দাবীতে শহরের ৪টি বাজার ও ১ টি মার্কেটের দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে সোমবার জেলা প্রশাসন সভা আহবান করে। এতে ওই স্থানটিতে ট্রাক ষ্ট্যান্ড করার কথা বিভিন্ন পক্ষ থেকে বলা হলে নদীরপাড়ে বাধ দেয়া স্থানে ট্রাক ষ্ট্যান্ডে করা যাবেনা বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি রিপোর্ট পড়ে শুনানো হয়। এছাড়া হাটবাজার শ্রেনীর জায়গায় ট্রাকষ্ট্যান্ড করা যাবে কিনা সে ব্যাপারে সরকারের অনুমতি, সেখানে ট্রাক স্ট্যান্ড করলে কয়টি ট্রাক সংকুলান হব,যানজট বৃদ্ধি পাবে কিনা ইত্যাদি নানা দিক আলোচনা করে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহনের সিদ্ধান্ত হয়। সে পর্যন্ত ওই জায়গা কাটাতারের বেড়া দিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রনে রাখা হবে বলে জানিয়ে দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম।

প্রশাসনের কমর্কর্তাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শংকর কুমার বিশ্বাস,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জেসমিন সুলতানা। সভায় এ নিয়ে কথা বলেন সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা,জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন,সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ,জেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর মোবারক হোসাইন আকন্দ,এনসিপি’র জেলা সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান লিটন,ইসলামী আন্দোলন সভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম,গনঅধিকার পরিষদ নেতা আশরাফুল ইসলাম তপু,বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আবুল কালাম,আশীষ পাল,মো: সফিউল্লাহ,জালাল উদ্দিন,ট্রাক মালিক গ্রুপের নেতা মো: মেরাজ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন,সাধারণ সম্পাদক মো: বাহারুল ইসলাম মোল্লা,ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক মো: ইব্রাহিম খান সাদাত বক্তব্য রাখেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জেসমিন সুলতানা বলেন-বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে লীজ বাতিলের উদ্যােগ নেয়া হয়েছে। যেহেতু জায়গাটি তিতাস নদীর পাড়ে এবং বাধ সংলগ্ন সেজন্য সেখানে ট্রাক ষ্ট্যান্ড করা সমীচীন হবে কিনা সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হবে। সরকারী জায়গাটি যাতে বেদখল না হয় সেজন্য সেখানে কাটাতারের বেড়া দিয়ে দেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০০ প্রতিবন্ধী উপহার পেল সৈয়দ তৈমুর ফাউন্ডেশনের ছাতা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন