যশোরের মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের গাবরডাঙ্গা গ্রামের প্রভাষ ঘোষ বাদী হয়ে যশোরের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ২ ডিসেম্বর ওসি বাবলুর রহমান খান ও এসআই মিলন হোসেনকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বাদী প্রভাষ ঘোষ উল্লেখ করেন, নেহালপুর মৌজায় তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৫ একর ১৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি— রবিউল হোসেন, আবুল হোসেন, রফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন— উক্ত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। বাদীর অভিযোগ, জমি দখলের চেষ্টা ঠেকাতে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেও মনিরামপুর থানা কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ওসি ও এসআই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে বাদীর অভিযোগ আমলে না নিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী থানায় গিয়ে আইনগত সহায়তা চাইলে ওসি ও এসআই তাকে হুমকি দেন। তারা জানিয়ে দেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বরং বাদী “বেশি বাড়াবাড়ি” করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কোর্টে চালান করে দেওয়া হবে। এতে বাদী ও তার পরিবার চরমভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রতন কুমার দেবনাথ বলেন, “বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওসি বাবলুর রহমান খান ও এসআই মিলন হোসেনকে আগামী ২ ডিসেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খান বলেন মামলা হয়েছে শুনেছি তবে আদালতের লিখিত কপি হাতে পায়নি।
ওসি বাবলুর আরো বলেন, মামলার বাদী প্রভাষ ঘোষ একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু সে বিগত স্বৈরাচার ফ্যাসিষ্ট সরকারের সময়ে একাধিক মানুষের জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ আছে। তবে তাকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে আইনের মধ্যে থেকে। প্রভাষ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও আছে বলে জানান ওসি বাবলুর রহমান।
পড়ুন : সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসনে শুরু হল নদী খনন


