বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে ট্রেনে হামলা, ৯ যাত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজশায়ারে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অন্তত ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে বিবিসি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে দুই সন্দেহভাজনকে।

শনিবার (১ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৯ মিনিটে পুলিশ খবর পায় যে ক্যামব্রিজশায়ারগামী একটি ট্রেনে একাধিক যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এক্স বার্তায় ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে অভিযানে অংশ নেয় এবং দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ আরও জানায়, সশস্ত্র সদস্যরা হান্টিংডন স্টেশনে ট্রেনটি থামিয়ে অভিযান চালায় এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। ইস্ট অফ ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, তারা হান্টিংডন রেলওয়ে স্টেশনে একটি বৃহৎ পরিসরে কর্মতপৎরতা চালাচ্ছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তিনটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ভেতরে হঠাৎ এক ব্যক্তি বড় ছুরি হাতে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়, ফলে আতঙ্কে অনেকে বাথরুমে লুকিয়ে পড়েন ও কেউ কেউ হুড়োহুড়িতে পায়ের নিচে পড়ে আহত হন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পুলিশ পরে টেসার ব্যবহার করে এক হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জরুরি সেবার সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। এছাড়া সবাইকে পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলারও আহ্বান জানান তিনি।

লন্ডন নর্থ ইস্টার্ন রেলওয়ে (এলএনইআর) জানায়, এই ঘটনা তাদের একটি ট্রেনে ঘটেছে এবং হান্টিংডন স্টেশনে বন্ধ রাখা হয়েছে সব ট্রেন চলাচল। ফলে লন্ডন, পিটারবারো, কেমব্রিজ, ইয়র্ক ও এডিনবার্গের মতো ব্যস্ততম স্টপেজগুলো বন্ধ রয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ২০১১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ছুরিকাঘাতের অপরাধ বাড়ছে। কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও ছুরি অপরাধ এখন “জাতীয় সংকটে” পরিণত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি হোম অফিস জানিয়েছে, ছুরি অপরাধ দমন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জব্দ বা জমা নেয়া হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ছুরি। জনসমক্ষে ছুরি বহন করলে চার বছর পর্যন্ত জেলের বিধানও রাখা হয়েছে।

এর আগে গত অক্টোবর মাসে ম্যানচেস্টারের একটি সিনাগগে ছুরিকাঘাতে দুজন নিহত হন, যার মধ্যে একজন ভুলবশত পুলিশের গুলিতে মারা যান। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে ব্রিটেনজুড়ে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ট্রাম্পের ঘোষণা : কানাডার সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য আলোচনা নয়

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন