ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকার প্রয়োজন সমবায় সমিতি লিমিটেডের মালিক নারী উদ্যোক্তা পিংকি বেগমকে দক্ষিণ আইচা থানায় মব সৃষ্টি করে অবরুদ্ধ রেখেছে সমিতির গ্রাহকরা।
রবিবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত তাকে গ্রাহকদের দ্বারা থানার মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নারী উদ্যোক্তা পিংকি বেগম দক্ষিণ আইচা থানার বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন সমবায় সমিতির মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা সংগ্রহ করে ও ঋণ বিতরণ করে আসছিলেন। দক্ষিণ আইচায় তার একটি বস্ত্রের শোরুম ও ডাচবাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে।
শনিবার দুপুরে সে তার শোরুমে আসলে কয়েকজন গ্রাহক তাকে আটকে রাখেন। এরই মধ্যে সে সমিতির টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন মর্মে সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য গ্রাহকেরা প্রয়োজন সমবায় সমিতিতে ভীড় করেন, সময় বাড়ার সাথে সাথে কয়েকশত গ্রাহক ও বিনিয়োগকারী তাদের পাওনা টাকা আদায়ে প্রয়োজন সমবায় সমিতি কার্যালয়ে জড়ো হয়ে তাকে অবরুদ্ধ রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকবারের চেষ্টায় উত্তেজিত গ্রাহকদের কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে দক্ষিণ আইচা থানায় নিয়ে আসে। পরে সারা রাত ও দিনভর গ্রাহকগণ থানার সামনে ভিড় করেন।
সমিতির গ্রাহক আসলামপুরের রিটু বেগম থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বলেন, আমার প্রবাসী স্বামী’র পাঠানো ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন সমবায় সমিতির কাছে এফডিআর আছে, তারা তিন মাস আমাকে লাভ দিয়েছিলো। সমিতির মালিককে আটক করেছে শুনে আমার টাকা ফেরত নিতে এসেছি ।
আরেক গ্রাহক সাজেদা বেগম বলেন, আমার ২৫ হাজার টাকা সমিতির কাছে আছে। সমিতির গ্রাহক আইয়ুব আলী বলেন, আমার এফডিআর আছে, আমি অসুস্থ মানুষ প্রতি মাসে এফডিআর থেকে পাওয়া লাভের টাকা দিয়ে মোটামুটি চলি। কয়েকদিন আগে পিংকি বেগমকে লাভের টাকার জন্য ফোন দিলে তিনি শনিবার আসবেন বলে জানান। যেই কথা সেই কাজ শনিবার দক্ষিণ আইচা তার সমিতির অফিসে এসে সে আমাকে ফোন দেয় । আমি লাভের টাকা নিতে এসে দেখি কিছু গ্রাহক তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এখন যে ঝামেলা তৈরি হয়েছে আমার পাওনা এফডিআর এর টাকা সমিতি থেকে নিতে চাই। তাই থানায় এসেছি।
এ বিষয়ে থানায় অবরুদ্ধ পিংকি বেগম সাংবাদিককে বলেন , প্রয়োজন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর কাছে গ্রাহকদের ৪৯টি ডিপিস এ মোট ৬ লাখ ১৯ হাজার ৪শ টাকা, ৫৭ টি এফডিআর (এককালীন) ৪৭ লাখ টাকা ও ১৭ টি সেভিংস এ ৫ লাখ ১৬হাজার ২শ ৫৯ টাকা জমা রয়েছে। অপর দিকে বিভিন্ন ঋণ গ্রহীতার কাছে এই সমিতি ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩ টাকা ঋণ বিনিয়োগ করেছে । তিনটি দোকানে আমাদের এডভান্স ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে । প্রয়োজন শো রুমে ১৮ লাখ টাকার পণ্য রয়েছে । আমি এখনো অবরুদ্ধ আছি গ্রাহকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করবো।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, পিংকি বেগম থানায় হেফাজতে আছেন। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে কেউ মামলা দেয়নি। শুনেছি গ্রাহক ও সমিতির মালিক পক্ষের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
পড়ুন : চরফ্যাশনে তিন প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন


