২৫/০২/২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
30.6 C
Dhaka
২৫/০২/২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আসল-নকল স্মার্টওয়াচ চিনবেন যেভাবে

স্মার্ট গ্যাজেট এখন সবার নিত্যসঙ্গী—স্মার্টফোনের পাশাপাশি স্মার্টওয়াচও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে অনেক সময় না বুঝে নকল স্মার্টওয়াচ কিনে ফেলেন অনেকে। এতে একদিকে টাকাও নষ্ট হয়, অন্যদিকে পছন্দের ঘড়িটি বেশিদিন ব্যবহারও করা যায় না।

বিজ্ঞাপন

তবে কিছু সহজ কৌশল জানলে সহজেই বোঝা সম্ভব—স্মার্টওয়াচটি আসল নাকি নকল। দেখে নিন সেই উপায়গুলো:

১. প্যাকেজিং পরীক্ষা করুন

নকল পণ্যে সবচেয়ে সহজে ধরা পড়ে প্যাকেজিংয়ের ত্রুটি। আসল ব্র্যান্ডের প্যাকেট সাধারণত শক্ত, সুদৃঢ় কার্টন ও পরিষ্কার প্রিন্টে তৈরি হয়। লোগো, রঙ এবং টাইপোগ্রাফি নির্ভুল থাকে। সিরিয়াল নম্বর, আইএমইআই বা আইডি, মডেল নম্বর ও বারকোড স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। বক্সের ভেতরে চার্জার, স্ট্র্যাপ, ইউজার ম্যানুয়াল ও ওয়ারেন্টি কার্ড সঠিকভাবে প্যাক করা থাকে।
অন্যদিকে নকল পণ্যের ম্যানুয়ালের কাগজ পাতলা হয়, ছাপ ঝাপসা থাকে বা ভাষাগত ভুল থাকে।

২. নির্মাণগত গুণমান

ওজন: নকল ঘড়ি সাধারণত অতিরিক্ত হালকা হয়, কারণ এতে সস্তা ধাতু বা প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়।
ফিনিশিং: বাটনের গ্যাপ, স্ক্রিনের প্রান্ত, স্ট্র্যাপের সেলাই ইত্যাদি জায়গায় যত্নশীল কাজ আছে কি না দেখুন। কাঁচে বা বেজেলে বুদবুদ বা অসমানতা থাকলে সতর্ক হোন।
স্ট্র্যাপ ও ক্লাস্প: আসল ব্র্যান্ড সাধারণত মানসম্মত লেদার, সিলিকন বা মেটাল ব্যবহার করে। নকল স্ট্র্যাপে চটচটে গন্ধ থাকে, সহজে ফেটে যায় বা রঙ উঠে যায়।

৩. সফটওয়্যার ও ইন্টারফেস পরীক্ষা করুন

আসল স্মার্টওয়াচ চিনতে সফটওয়্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফোনে পেয়ার করার সময় অফিসিয়াল ব্র্যান্ডের অ্যাপটি ব্যবহার হচ্ছে কি না দেখুন। অ্যাপের নাম, ডেভেলপার ও রেটিং যাচাই করুন। নকল ঘড়ি অনেক সময় তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে বা অফিসিয়াল নামের মতো ভুয়া অ্যাপ থাকে।
ফার্মওয়্যার আপডেট: অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপে আপডেট অপশন আছে কি না দেখুন; নকল ঘড়িতে সাধারণত এই ফিচার অনুপস্থিত থাকে।

৪. সেন্সর ও ফিচার যাচাই করুন

হৃদস্পন্দন, SpO₂, ইসিজি, জিপিএস ইত্যাদি ফিচারগুলো সত্যিই কাজ করছে কি না পরীক্ষা করুন।

হার্ট রেট: স্থির অবস্থায় ও হাঁটার সময় রিডিং নিন; অস্বাভাবিক ওঠানামা হলে সন্দেহ করুন।

জিপিএস: বাইরে গিয়ে রুট ট্র্যাক করে দেখুন—অবস্থান সঠিক না হলে সেটি সস্তা বা নকল চিপ হতে পারে।

কল ও অডিও: কলের সময় শব্দ কেটে যাওয়া বা বিকৃত হলে সেটিও নকল হওয়ার ইঙ্গিত।
অফিসিয়াল সার্ভিসে ঘড়িটির সিরিয়াল বা আইডি রেজিস্টার করার চেষ্টা করুন; রেজিস্টার না হলে সেটি আসল নয় বলেই ধরে নেওয়া যায়।

৫. ব্যাটারি ও পারফরম্যান্স

প্রস্তুতকারকের ঘোষিত ব্যাটারি লাইফ বাস্তবে মেলে কি না খেয়াল করুন। নকল ঘড়ি সাধারণত দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যায়। চার্জার ও পোর্টও পরীক্ষা করুন—অরিজিনাল চার্জার সাধারণত ম্যাগনেটিক বা বিশেষ কনেক্টরযুক্ত হয়, যেখানে নকলগুলোর চার্জার ঠিকমতো ফিট হয় না বা ধীরে চার্জ নেয়।

৬. দাম ও কেনার উৎস

অতিরিক্ত ছাড় বা সন্দেহজনক অফার দেখে কেনা থেকে বিরত থাকুন। সর্বদা অফিসিয়াল স্টোর বা অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন। অনলাইনে কিনলে বিক্রেতার রিভিউ ও রেটিং দেখুন। অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি কার্ড ও সার্ভিস সাপোর্ট নিশ্চিত করুন।

পড়ুন: গুগল ম্যাপের ৫টি দারুণ ফিচার

দেখুন: অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী বানাচ্ছে ইরান

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন