মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যপাড়ায় অবস্থিত মাস্টার আব্দুর রহমান একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান শিক্ষক শিবেন্দ্র চক্রবর্তীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৩ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মফিজুল ইসলাম চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে অভিযুক্তদের কাছে উকিল নোটিশ পাঠান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও সার্টিফিকেট জালিয়াতি ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর পরিবর্তন করে জুয়েল ও মাসুদা বেগম নামের দুইজনকে অবৈধভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক শিবেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফ্যাসিবাদের দোসর বানিয়ে বিদ্যালয় থেকে অপসারণ করে। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে ২৪ টি অভিযোগ লিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।
তিনি আরও বলেন,এ ঘটনায় গত বছরের ৫ নভেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাই, যেখানে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি। তবে চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর আমি একটি উকিল নোটিশ পেয়েছি, সেখানে আমাকে ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.দেলোয়ার হোসেন বলেন,নীতিমালা অনুযায়ী কেউ স্কুলের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজের ব্যাংক একাউন্টে লেনদেন করতে পারেন না। কিন্তু সাবেক প্রধান শিক্ষক ৬–৭টি স্কুল একাউন্ট থাকা সত্ত্বেও ১০ বছর ধরে নিজের একাউন্টে বিদ্যালয়ের অর্থ লেনদেন করেছেন। পরবর্তীতে হিসাব চাওয়া হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
তিনি আরও জানান,যাদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তাদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি— দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে বিদ্যালয়ের তহবিলে আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত ও অবৈধ নিয়োগ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পড়ুন: রাঙামাটিতে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
আর/


