বিজ্ঞাপন

মঞ্জুরুলকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ আরেক নারী ক্রিকেটারের

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম (মঞ্জু)-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ। সতীর্থ জাহানারা আলমের অভিযোগকে সমর্থন জানিয়ে তিনি দলের ভেতরের অস্বস্তিকর পরিবেশ, ‘টাচ-সম্পর্কিত সমস্যা’, অপমান ও সিনিয়রদের প্রতি অশ্রদ্ধার অভিযোগ তুলেছেন। রুমানা আহমেদ বাংলাদেশের স্বনামধন্য একটি পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, মঞ্জুরুল ইসলাম খেলোয়াড়দের কাঁধে ধরা বা পেছন থেকে দুই হাতে ধরে কথা বলার মতো অস্বস্তিকর আচরণ করতেন।

রুমানা স্পষ্ট করে বলেন, “মঞ্জু ভাই টাচ করে কথা বলা পছন্দ করতেন। ইনফ্যাক্ট শোল্ডার ধরত, পেছন থেকে এসে দুই হাতে ধরে কথা বলত। কোনটা গুড টাচ, কোনটা ব্যাড টাচ—এইটুকুনি বোঝার মতো ক্ষমতা মেয়েদের অবশ্যই আছে।”

রুমানা নিশ্চিত করেন যে, জিম্বাবুয়ে সফরের সময় বড় ধরনের বিরোধের পর জাহানারা আলম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) একটি ৬ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিসিবি সেই অভিযোগের কোনো সঠিক তদন্ত করেনি। বরং উল্টো ওই অভিযোগপত্র জাহানারার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হয় এবং তাকে নানা ইস্যুতে জড়ানো হয়।

সাবেক এই অধিনায়ক দাবি করেন, এসব বিষয়ে বিসিবিকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল, এমনকি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছেও, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “মিডিয়া জানত, দেশের সবাই জানত—কিন্তু বিসিবি জানত না, এটা হতে পারে না।” রুমানা আরও অভিযোগ করেন, মঞ্জুরুলকে নিয়ে শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, অফিশিয়ালদের মধ্যেও ‘ভীতি’র পরিবেশ ছিল। তিনি এমন আচরণ করতেন, যেন খেলোয়াড়রা ‘গরু-ছাগল’।

রুমানা নিজের দল থেকে বাদ পড়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মঞ্জুরুল ইসলামের প্ররোচনায় তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘কালার করে’ বাদ দেওয়া হয়েছে। তার পারফরম্যান্স ঠিক থাকলেও ‘ফিটনেসের অজুহাত’ দেওয়া হয়েছিল। টানা চার বছর অধিনায়কত্ব করার পরও যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

রুমানা আহমেদ অবশেষে বিসিবিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জাহানারা বলেছে, আমি বলেছি—এগুলো শোনার সময় এসেছে। আমরা সিনিয়ররা না বললে জুনিয়ররা চিরদিন চুপ থাকবে। এই বিষয়গুলো এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব দেখছে। বোর্ড যদি আগেই ব্যবস্থা নিত, আজ এতদূর যেত না।”

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ক্রিকেটার জাহানারার অভিযোগ নিয়ে কী বলছেন অভিযুক্ত মঞ্জুরুল

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন