‘বিভেদপন্থী ও জুম্মস্বার্থ পরিপন্থী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করুন; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্দোলনে অধিকতর সামিল হোন’ এ স্লোগানে রাঙামাটিতে মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার (এমএন লারমা) ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী ও ‘জুম্ম জাতীয় শোক দিবস’ পালিত হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) আয়োজনে রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় জনসংহতি সমিতি রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি গঙ্গা মানিক চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিশির চাকমা।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশিকা চাকমা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাঙামাটি জেলা সভাপতি সুমন চাকমা প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮ বছর কেটে গেল, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। যে সরকার চুক্তি করেছে; তারাও টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন, তাও অগ্রগতি হয়নি। এমএন লারমা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ে কাজ করে গেছেন। অথচ আমাদের জাতীয় বেঈমানরা তাকে বাঁচতে দেয়নি। ফলে জুম্ম জাতি আজ পর্যন্ত তাদের অধিকার আদায় করতে পারেনি। এই বিভেদপন্থীরা এখনো নানা ষডযন্ত্র করে যাচ্ছে। জুম্ম জাতিকে তাদের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে, তাদের বর্জন করতে হবে। চুক্তির বাস্তবায়ন চাইলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যথায় আমরা আমাদের অধিকার পাব না। তার প্রমাণ চুক্তির ২৮ বছরেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ, সাড়ে ৮টায় প্রভাত ফেরী, ৯টার দিকে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এমএন লারমার অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সকাল ১০টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শুরু হয় আলোচনা সভা।
প্রসঙ্গত, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এমএন লারমা) ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) প্রতিষ্ঠা করেন এবং জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনিই অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের দশ বছরের মাথায় ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে তিনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যু দিনকে ‘জুম্ম জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে পাহাড়িরা।


