কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম বলেন, শেখ হাসিনা ১৬ বছর মানুষকে অত্যাচার জলুম করেছে এবং অসম্মান করেছে। কম অত্যাচারে মানুষ তাকে তাড়ায় নাই। তার সময়ে নৌকা আলারা যত চান্দা তুলেছে গত ১৪ মাসে তার ১০ গুণ অন্য দলেরা করেছে। শেখ হাসিনার যখন পতন হয় তখন মানুষের মনে ১ নম্বর ছিল ধানের শীষ এখন ধানের শীষ হয়েছে মানুষের পেটের বিষ। যে কারণে মানুষ বিক্ষুব্দ হয়ে শেখ হাসিনার সরিয়েছে সেই একই কাজ করলে বিএনপিকেও ভুলে যেতে মানুষের সময় লাগবে না।
সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরে বহেড়াতৈল ইউনিয়ন কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলাম আজকে অনেক লাফালাফি করছে আমি আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলছি তারা এককভাবে ইলেকশন করলে ৫টির বেশি আসন পাবে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত যে অপরাধ করেছে সত্যিকার অর্থে মাফ না চাইলে তারা কখনো দেশের শাসন ক্ষমতায় যেতে পারবে না।
তিনি বলেন, দাবি আদায়ের জন্য অধিকার আদায়ের জন্য কখনো কখনো যুদ্ধ করতে হয়। তার মানে এই নয় যে বিশৃঙ্খলা করতে হবে। আমি যুদ্ধ পছন্দ করি কিন্তু বিশৃঙ্খলা পছন্দ করি না। দেশে এখন বিশৃঙ্খলা চলছে। কত জনের কত বাড়িঘর ভাঙল শেষে শুনছি রাষ্ট্রের সরকারের সর্বোচ্চ প্রধান তাঁর বাড়িতেও নাকি আক্রমন হয়। যে লোক নিজেকে রক্ষা করতে পারে না বাড়িঘর রক্ষা করতে পারে না তিনি কীভাবে ১৮ কোটি মানুষকে কি করে নিরাপত্তা দিবে।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, শেখ হাসিনা মানুষকে কম নির্যাতন করে নাই এই ৮/১০ টা বাচ্চা ছেলে তার পতন ঘটাতে পারে নাই, বিএনপি পারে নাই, জামায়াত পারে নাই কিন্তু তার পতন হয়েছে । আমি বিশ্বাস করি তার পতন আল্লাহর তরফ থেকে হয়েছে। শেখ হাসিনা মানুষকে ভোট দিতে দেয় নাই তেমনি এই সরকারও আমাদের ভোট দিতে দেবে না। আওয়ামী লীগ ছাড়া,বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ, ভাষানীর আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের মানুষের আওয়া লীগ, ভোটারদের আওয়ামী লীগ ছাড়া আমি গামছা নিয়ে নির্বাচন করতে যাবো না। জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে যদি ভোটের বাইরে রাখা হয় তাহলে আমি নির্বাচনে যাবো না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা জয় বাংলা বলে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। বঙবন্ধু আমার ধ্যান, জ্ঞান আমার চৈতন্য।
ডক্টর ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, শেখ হাসিনা যখন আপনাকে সুধখোর বলেছিল আমি আপনার গ্রামীণ ব্যাংকের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি পাশে না দাঁড়ালে গ্রামীণ ব্যাংক মাটির সঙ্গে মিশে যেত। ভবিষ্যতেও শুধু গ্রামীণ ব্যাংক নয় গ্রামীণ নামে যা কিছু আছে তারও বিপদ আছে।
বীরমুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু ছালেক হিটলু, উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি আবদুস ছবুর, সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সজীব, ছানোয়ার হোসেন মাস্টার, দুলাল হোসেন মাস্টার, আশিক জাহাঙ্গীর, আলমগীর সিদ্দিকী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
পড়ুন : টাঙ্গাইলের নির্বাচন অফিসে ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকসহ ৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা


