জমিটির মূল মালিক রেহানা বেগম।তিনি মারা গেছেন প্রায় ৩ বছর আগে। অথচ তাকেই ‘জীবিত’ দেখিয়ে ‘রেহানা বেগম’ নামের এক নারীকে ‘রেহানা বেগম’ সাজানো হয়েছে। যাকে সাজানো হয়েছে সে মৃত্যুর রেহানার বড় ভাইয়ের স্ত্রী হন।অথচ এখানে স্বামী ও পিতার নাম মৃত্যু রেহানার পরিচয় ‘জীবিত’ সাজিয়ে ০১.৬৬ শতাংশ জমি, জালিয়াতির মাধ্যমে জাল দলিল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ বাবুল হাওলাদার ও তার গংদের বিরুদ্ধে।এই সুযোগে জালিয়াতির সুযোগ নেয় স্থানীয় একটি চক্র।এমন ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ ধূয়াসার গ্রামে।
সংশ্লিষ্ট ও কাগজপত্র পর্যবেক্ষণে জানা যায়,ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ধূয়াসার মৌজার সাবেক ৬১নং খতিয়ানের আক্কেল আলী কবিরাজের থেকে ১৯৬১ সালে ৪১৪৪নং সাব কবলা ৩১ শতাংশ জমি দলিল করেন মাহফুজা বেগম। দীর্ঘদিন ভোগ দখলে থেকে বর্তমানে বি আর এস খতিয়ানের ৩৬৭ নং দাগে মাহফুজা বেগমের নামে পরে চূড়ান্তভাবে রেকর্ড করা হয়। মৃত্যু রেহেনা বেগমের মা হন মৃত মাহফুজা বেগম। ওয়ারিশ সূত্রে এই জমির মালিক হন রেহানা বেগম ও তার ভাই বোনেরা। এদিকে মৃত রেহানা বেগম সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের এওজ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম নাদের আলী। অন্যদিকে মালিক সেজে জমি লিখে দেয়া রেহানা বেগমের প্রকৃত নাম (সিমা আক্তার) তার বাড়ি একই ইউনিয়নের হলেও মৃত রেহানার ঠিকানা ব্যবহার করেছে তিনি। তার (সিমা আক্তার) বাবার নাম লতিফ খন্দকার। এদিকে রেহানা বেগম মারা যাওয়ার পরে তার জমির উপর নজর পড়ে আওয়ামী লীগের নেতা নান্নু হাওলাদার ও উপজেলা দলিল লেখক মিজানুর রহমানের।তাদের যোগ সাজেসে নামমাত্র টাকায় মৃত্যু রেহানা বেগমের জমি দলিল করে দেন গ্রহীতাদের।
কালকিনি রেজিস্টার অফিসের তথ্যমতে :
কালকিনি উপজেলা সাব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে, গেল বছর ২৯ সেপ্টেম্বর মাসের ৪৫৮৩/২৪ নম্বর দলিলে এ জালিয়াতি হয়েছে। ২৪.৪৭ শতাংশ জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। ১০ জন জমিদাতার মধ্যে একজন মারা গেছে ২০২১ সালে তিনি হলেন রেহানা বেগম। রেহানা বেগম ছাড়া সকল জমিদাতা এখনো জীবিত।
৬৩৩ খতিয়ান ও ৫৪৪ দাগের দক্ষিণ ধূয়াসার মৌজার জমিটি রেজিস্ট্রি করা হয় মোঃ বাবুল হাওলাদার ও কোহিনুর বেগমের নামে। দলিল লেখক মিজানুর রহমান দলিলটি সম্পাদন করেন।
জমির মূল মালিকের বর্তমান ওয়ারিশরা। তাদের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় ভূমি অফিস, দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
জমির মৃত মালিক রেহানা বেগমের মৃত্যু সনদ:
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মৃত্যুর সনদের একটি সাক্ষরে দেখা যায়, মৃত্যু নাদের আলী ও মাহফুজা বেগমের মেয়ে মৃত্যু রেহানা বেগম দীর্ঘ বছর ধরে ঢাকা জেলার সবুজবাগ থানার ৪নং ওয়ার্ডের ৫৬,মধ্যে বাসাবো এলাকার অস্থায়ী বাসিন্দা। তিনি ২০২১ সালের অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখে মৃত্যুবরন করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জমি লিখে দেয়া ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম মো. সিমা আক্তার ,বাবা লতিফ খন্দকার ও মা হালিমোন খন্দকার বলে উল্লেখ রয়েছে। ঠিকানা হিসেবে এওজ গ্রামের উল্লেখ রয়েছে।এদিকে মৃত ‘রেহানা’কে ‘রেহানা’ বানাতে চুরি করা হয়েছে মৃত্যু রেহানার ভোটার আইডি কার্ড।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়, চক্রটি খুব চতুরতার সঙ্গে একটি জাল সনদে মৃত রেহানাকে জীবিত রেহানা হিসেবে দেখিয়ে খাজনা প্রদানসহ জমিটি রেজিস্ট্রি করে।
এ ঘটনায় চক্রটির বিচার চেয়েছেন স্থানীয়রা।
কথা হয় জমিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত রেহানা বেগম ওরফে সিমা আক্তারের স্বামী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। তিনি স্বীকার করে বলেন, জমির মালিক সাজাতে আমার পেছনে অনেক দিন ধরে ঘুরেছে কয়েকজন।আপনাকে এই বিষয়ে আর কিছু বলতে পারব না। এ ঘটনায়তো মামলা হয়েছে। কতটুকু জমি বা কত টাকায় বিক্রি হয়েছে, এমন প্রশ্নে বলেন, বাড়িতে আছেন সরাসরি কথা বলি।
এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মাদারীপুর আদালতে একাটি মামলা দায়ের করেন মৃত রেহানা বেগমের বোনের মেয়ে ফাতেমা আক্তার।তিনি বলেন, আমার খালু মারা যাওয়ার পর।দীর্ঘ বছর তার ছেলে সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকে। তার একটি ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী। একটা মেয়ে সে বিদেশে থাকে। সে ২০২১ সালে ঢাকায় বসে মারা যান। এদিকে আমার বড় মামানিকে খালা রেহানা বেগম সাজিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময় আমার এই খালার জমি বিক্রি করে দিয়েছে তারা।ঘটনায় মামলাটি আদালত সিআইডিকে তদন্তের জন্য দিয়েছে।
আর এ সকল কাজের মূল নায়ক হয়েছে নান্নু হাওলাদার তিনি আওয়ামী লীগের নেতা। তার ক্ষমতা বলে এগুলো করা হয়েছে। আমি এদের কঠিন বিচার চাই।
মৃত্যু রেহানা বেগম বোনের ছেলে আবদুস সামাদ বলেন, যারা আমার খেলার জমি জালিয়াতি করে জাল দলিল করে নিয়েছে আমরা আপনাদের কঠোর বিচার চাই। এদিকে সাব রেজিস্টার আসানুল হক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ কাজটি করেছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের।
এদিকে জমি গ্রহীতা বাবুল হাওলাদার ও কোহিনুরের বাড়িতে গিয়েও তাকে তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাদের মুঠোফোন ও একাধিকবার ফোন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
জমি কেনা বেচার প্রতারণার চক্র নান্নু হাওলাদার ও জমি লেখক মিজানুর রহমানের বাড়িতে গিয়েও শুনতে হয় উল্টো কথা। তারা বলেন মামলা হইছে আদালতে বুজবে।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি অফিসার বাবুল হোসেন জানান, তদন্ত রিপোর্টটি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
কালকিনি সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার আহসানুল হক বলেন, জমিদাতার নামের সামান্য তারতম্য আছে। তবে এটা কোনো বিষয় না। মামলা হয়ে থাকলে এটা সাবজেক্ট ওয়েস। এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে চাচ্ছি না।যদি দলিল লেখক এ কাজটি করে থাকে তার বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিবেন জবাবে তিনি বলেন, দলিল লেখক তথ্য গোপন করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পড়ুন: বরগুনায় জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে আগুন
দেখুন: মাদারীপুরে সেতুর কাজ মাঝ পথেই বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে
ইম/


