দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আমেরিকান অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা ১ সেন্ট মূল্যমানের মুদ্রা বা ‘পেনি’র উৎপাদন বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ফিলাডেলফিয়ার ইউএস মিন্টে শেষবারের মতো পেনি মুদ্রণ সম্পন্ন হয়, যার মধ্য দিয়ে ২৩২ বছরের পুরনো এক ঐতিহ্যের সমাপ্তি ঘটল।১৭৯৩ সালে প্রথম চালু হওয়া পেনি একসময় দৈনন্দিন কেনাকাটায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। একটি পেনি দিয়ে কেনা যেত বিস্কুট, মোমবাতি কিংবা ক্যান্ডি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মুদ্রার বাস্তব মূল্য হারিয়ে ফেলে। বর্তমানে অধিকাংশ পেনি কাচের বয়াম, ড্রয়ার বা সংগ্রহশালায় পড়ে থাকে।
মার্কিন ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচ জানান, “ঈশ্বর আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন, আমরা করদাতাদের প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে যাচ্ছি।” তিনি বলেন, প্রতিটি পেনি তৈরি করতে সরকারের খরচ হচ্ছিল প্রায় ৪ সেন্ট—অর্থাৎ এর প্রকৃত মূল্যের চেয়ে চারগুণ বেশি।
শেষ পেনিগুলো মুদ্রণের সময় মিন্টের কর্মীরা নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যেন কোনো পুরনো বন্ধুকে বিদায় জানাচ্ছেন। মুদ্রণ সম্পন্ন হলে করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো টাকশাল। সর্বশেষ তৈরি হওয়া কয়েকটি পেনি স্মারক হিসেবে নিলামে তোলার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।
যদিও বাজারে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন পেনি এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে চলবে, তবে নতুন করে আর কোনো পেনি তৈরি হবে না। কর্মকর্তাদের মতে, পেনির উৎপাদন কার্যক্রম ইতোমধ্যেই গ্রীষ্মকালেই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।
এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে এক অনলাইন পোস্টে লিখেছিলেন, “আমরা এতদিন ধরে এমন একটি মুদ্রা তৈরি করেছি যার জন্য আক্ষরিক অর্থে দুই সেন্টেরও বেশি খরচ হয়—এটা নিছক অপচয়।”
তবুও অনেক আমেরিকান পেনির প্রতি আবেগী। কেউ একে সৌভাগ্যের প্রতীক, আবার কেউ ইতিহাসের এক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করেন। খুচরা বিক্রেতারা অবশ্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন—তাদের মতে, পর্যাপ্ত নির্দেশনা ছাড়াই এই বিলোপ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নগদ লেনদেনে কিছু সময়ের জন্য জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব কনভেনিয়েন্স স্টোরসের কর্মকর্তা জেফ লেনার্ড বলেন, “আমরা ৩০ বছর ধরে পেনি বাতিলের পক্ষে ছিলাম, কিন্তু এমন আকস্মিক সমাপ্তি কাম্য ছিল না।”
পেনি বাতিলের পক্ষে থাকা বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দিচ্ছেন—এতে খরচ কমবে, লেনদেন দ্রুত হবে এবং অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রও সময়ের সঙ্গে তাল মেলাবে। উদাহরণস্বরূপ, কানাডা ২০১২ সালেই পেনি তৈরি বন্ধ করেছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ সেন্ট (নিকেল) মুদ্রা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১৪ সেন্ট, ১০ সেন্টের জন্য লাগে ৬ সেন্টের কম, আর ২৫ সেন্টের (কোয়ার্টার) জন্য প্রায় ১৫ সেন্ট।
তবে পেনি কেবল একটি ধাতব টুকরো নয়, এটি আমেরিকার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীকও।
পড়ুন- এলিট শ্রেণীর চাঁদপুর ক্লাবে যে কেউ যাতে ঢুকতে না পারে:মোহসীন উদ্দিন
দেখুন- বরগুনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভসহ বিভিন্ন সড়কে অগ্নি/সং/যোগ


