১৫/০১/২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বগুড়ার ধুনটে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে এক মুহূর্তে উজাড় চার পরিবার: স্বপ্নও পুড়ে ছাই


বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াহাটা উত্তরপাড়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যে চার পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, কান্না আর হাহাকার।

বিজ্ঞাপন

পুড়ে যাওয়া চার পরিবারই মৃত আবুল হোসেন সরকারের সন্তান—তিন ভাই শহিদুল ইসলাম, মাসুদ রানা, সুইট রানা এবং তাদের একমাত্র বোন রিনা পারভিন। আলাদা ঘরে থাকলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই ভয়ংকর ছিল যে কোনো ঘরই রক্ষা পায়নি। মুহূর্তেই চারটি ঘর মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে দুই লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ, দুটি ফ্রিজ, টিভি, আলমারি, পোশাক, আসবাবসহ ঘরের প্রায় সব প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভস্মীভূত হয়েছে।

ব্যবসার উদ্দেশ্যে জমি বিক্রির টাকা হাতে পাওয়ার দুই দিনের মাথায় সব হারিয়ে হতবিহ্বল সুইট রানা বিলাপ করে বলেন,
“আগামীকাল ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। নতুন করে ব্যবসা শুরু করব—এমন স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সব পুড়ে গেল। এখন হাতে কিছুই নেই।”

রিনা পারভিনের ঘর থেকেও এক লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ ও বাড়ি নির্মাণসামগ্রী মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়। আগুন লাগার পর তীব্র ধোঁয়া ও আগুনের কারণেই কেউ ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারেননি।

ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় শিক্ষক নুরুল আমিন ও ওমর ফারুক বলেন,
“ফায়ার সার্ভিস একটু আগে এলে এত বড় ক্ষতি নাও হতে পারত। আগুনের গতি এত ভয়ংকর ছিল—কেউ কিছু করার সুযোগই পায়নি।”

খবর পেয়ে ধুনট ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু আগুন লাগার স্থানটি স্টেশন থেকে প্রায় ১৫–১৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় দেরি হয়ে যায়। ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মাসুদ রানা জানান,
“আমরা পৌঁছে আগুনের বিস্তার রোধ করতে পেরেছি। তবে তার আগেই চার পরিবারের সবকিছু পুড়ে গেছে। সৌভাগ্যজনকভাবে কেউ আহত হয়নি।”

নিজের সব হারানোর বেদনা জানাতে ক্ষতিগ্রস্ত মাসুদ রানা বলেন,
“চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। একটা জিনিসও বাঁচাতে পারলাম না। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব—বুঝতে পারছি না।”

ফায়ার সার্ভিসের হিসাব অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২০–২৫ লাখ টাকা। চার পরিবার এখন একেবারে নিঃস্ব—ঘর নেই, পোশাক নেই, সঞ্চয় নেই। আছে শুধু অনিশ্চয়তা আর ভয়।

এক মুহূর্তে সব হারিয়ে চার পরিবারের কান্না আর অসহায়ত্ব প্রত্যক্ষ করলে যে কারও হৃদয় ভারী হয়ে উঠবে। আগুন শুধু তাদের ঘরবাড়িই নয়—জীবনের সঞ্চিত স্বপ্নগুলোও পুড়িয়ে দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো স্থানীয় প্রশাসন, মানবিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। এখন একটি সহানুভূতির হাতই পারে তাদের আবার নতুন করে দাঁড়ানোর শক্তি দিতে।

পড়ুন: ডাকসু সদস্য রাফিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ, থানায় মামলা

দেখুন: দিনাজপুরে হলি ল্যান্ড কলেজ এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন