যে কোনো পরিস্থিতিতেই সন্ত্রাসবাদের প্রতি বাংলাদেশের শূন্য সহনশীলতার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সপ্তম সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিএসসিকে একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পারস্পরিক আস্থানির্ভর আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে বিকশিত হতে দেখতে চায়। যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিরাপত্তা সহযোগিতায় এগিয়ে যাবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সিএসসির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম সম্মেলনে দেওয়া সূচনা বক্তৃতা এবং নির্ধারিত সদস্য রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত ভাষণে এসব কথা বলেন ড. খলিল। সুষমা স্বরাজ ইনস্টিটিউট অব ফরেন সার্ভিসের সম্মেলন কক্ষে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সিএসসির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম বৈঠকের শুরুতেই ড. খলিল সম্প্রতি দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। কঠিন সময়ে বাংলাদেশ ভারতের জনগণের পাশে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিএসসি এবং এই সভাকে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ফোরাম হিসেবে বিবেচনা করে। বঙ্গোপসাগরের একটি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি আমাদের জাতীয় স্বার্থের মূল উপাদান। বৈশ্বিক জিডিপি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিতভাবে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ এবং সংগঠিত অপরাধ আমাদের অভিন্ন চিন্তার বিষয়।
ড. খলিল বলেন, সিএসসির সনদ সার্বভৌমত্ব, সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আর একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত মহাসাগরের জন্য বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবেই এ মূল্যবোধ ও নীতিগুলো মেনে চলে। এটি ভারত মহাসাগরীয় সম্প্রদায়ের সব সদস্যের সমৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তৈরি।
দেশভিত্তিক বিবৃতিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, সার্বভৌমত্ব, সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং হস্তক্ষেপ না করার মতো সিএসসির সনদে উল্লেখ করা নীতির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ এর কিছু কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশ কনক্লেভের কাজের পাঁচটি চিহ্নিত স্তম্ভের গুরুত্ব দেয়। সিএসসি এ অঞ্চলের সব সদস্যের জন্য সম্মিলিত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে শক্তিশালী দ্বৈত ভূমিকা পালন করছে। আমরা সামুদ্রিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বাড়ানো এবং জলদস্যুতা, অন্যান্য সংগঠিত সামুদ্রিক অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছি।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে আসছে। যে কোনো পরিস্থিতিতেই সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি আমাদের শূন্য সহনশীলতা নীতি রয়েছে। ক্রমবর্ধমান ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সাইবার অপরাধের হুমকি সব দেশকে প্রভাবিত করছে। তাই বাংলাদেশের কাছে সাইবার নিরাপত্তা একটি উচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা ক্রমাগত ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছি। আমরা কেবল নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্যই নয়; আমাদের নিজস্ব সাইবারস্পেস, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি সুরক্ষিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে জাতীয় পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সম্মিলিত পদক্ষেপগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আমি এ বিষয়ে সিএসসির পদক্ষেপের অপেক্ষা করছি।
উপদেষ্টা বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জটিলতাগুলো মোকাবিলা করার সময় পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থের নীতিগুলোকে সমুন্নত রাখাতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য কোনো বহিরাগত শক্তিকে আমাদের চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিতে পারি না।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আমন্ত্রণে সিএসসির সম্মেলনে যোগ দিতে গত মঙ্গলবার ঢাকা ছাড়েন ড. খলিল। বুধবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় প্রধান ইস্যু নিয়ে অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি
পড়ুন: আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস
দেখুন: রাশিয়ার জয়রথ থামাতে ইউক্রেনের শক্ত অবস্থান!
ইম/


