বিজ্ঞাপন

ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০, আহত শতাধিক

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপত্তি হওয়া ওই কম্পনে সারাদেশে ১০ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় একটি পাঁচ তলা ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে তিন পথচারী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাবা-ছেলে বলে জানা গেছে। তারা হলেন হাজি আব্দুল রহিম (৪৭) এবং মেহরাব হোসেন রিমন (১৩)। এছাড়া মায়ের সঙ্গে বাজার করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি। তার মা নুসরাত গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পের ফলে আতঙ্কিত মানুষজন দ্রুত ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় বিভিন্ন জায়গায় দেয়াল ধস ও ফাটলের ঘটনা ঘটে।

দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মঈনুল আহসান জানান, ঢাকায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হতাহতদের চিকিৎসায় দেশের সব হাসপাতালে জরুরি মেডিকেল টিম কাজ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি সরাসরি মনিটর করছে।

ঢাকায় মৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। আর ঢাকার বাইরে নরসিংদীতে দুজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে নরসিংদীর গাবতলীতে বাসার দেওয়াল চাপা পড়ে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পলাশে মাটির দেওয়াল ধসে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। আর রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামে এক শিশু মারা গেছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাবে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাফিউল ইসলাম রয়েছেন। তার মা এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত শতাধিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে অনেকে গুরুতর রয়েছেন।

আরও বলা হয়েছে, আনঅফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী— স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ১০ জন আহত গিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একই সংখ্যক ১০ জন আহত ভর্তি হয়েছেন। গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে আহত ১০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ৪৫ জন আহত, এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এমনকি ১০০ বেড হাসপাতালেও ১০ জন আহত ভর্তি আছেন।


অপরদিকে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে শতাধিক পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

ভূমিকম্পে উঁচু ভবন দুলতে শুরু করলে ঘরবাড়ি, অফিস, শিল্পকারখানা, দোকানপাট থেকে বের হয়ে মানুষ দ্রুত খোলা জায়গায় ছুটে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি ডেনিমেক কারখানা ও নগরীর ইটাহাটা এলাকায় স্থানীয় কোস্ট টু কোস্ট কারখানায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে শতাধিক শ্রমিক আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

শ্রীপুরের ডেনিমেক কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে কারখানার সাততলা ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে কাজ চলছিল। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে ভবন দুলতে থাকে। এ সময় সাইরেন বেজে উঠলে কারখানার শ্রমিকরা ভয়ে দ্রুত নিচে নামতে গেলে পদদলিত হয়ে অনেক শ্রমিক আহত হন। 

এছাড়া, গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী, জয়দেবপুর ও জেলার কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়াজুড়ে হঠাৎ মোবাইল নেটওয়ার্কে চাপ বৃদ্ধি পায়। কলড্রপ ও নেটওয়ার্ক জটিলতার সৃষ্টি হয়।

গাজীপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন বলেন, গাজীপুরে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু শ্রমিক হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন। 

পড়ুন : ভূমিকম্পে আরমানিটোলায় একটি ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন