২৫/০২/২০২৬, ০:৩১ পূর্বাহ্ণ
23.2 C
Dhaka
২৫/০২/২০২৬, ০:৩১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা কখনোই এ দেশের মানুষের প্রতিনিধি ছিলো না : সালাউদ্দিন আহমেদ

খুনি হাসিনা কখনোই এই দেশের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেনি। হাসিনা এবং শেখ মুজিবুর রহমান কখনোই এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে কোনো ভূমিকা রাখেননি। মুজিবুর রহমান বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদলীয় নায়কতন্ত্র কায়েম করতে চেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সেই বাকশালেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে—শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষের প্রতিনিধি নন; তিনি যে দেশের মানুষ ছিলেন, এখন সেই দেশেই চলে গেছেন।

আজ বিকেলে রাজধানীর উত্তরা শহীদ মীর মুগ্ধ মঞ্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম খুনের বিরুদ্ধে ২৪শে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছে, কেউ কেউ বলেন—এই আন্দোলন মাত্র ৩৬ দিনে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আসলে বুঝতে হবে, এই ৩৬ দিনের সংগ্রামের জন্য আমাদের ৩৬টি রক্তের সিঁড়ি পারি দিতে হয়েছে। এই গণআন্দোলন শুরু হয়েছে ২০০৯ সাল থেকেই। বিএনপি-সহ সব রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, সাংবাদিক ভাই-বোনেরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং সর্বস্তরের মানুষ মিলেই এই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। তাদের সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, গুম কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৮৫০ জনের নাম এসেছে। তাদের প্রত্যেকে যদি মামলা করেন, তাহলে শেখ হাসিনার শত শতবার ফাঁসি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। আমরা দেখেছি—যারা গুমের শিকার হয়েছেন, খুন হয়েছেন, রাজনৈতিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—তাদের রক্তের বিনিময়ে এই সিঁড়ি তৈরি হয়েছে। আমি নিজেও গুমের শিকার হয়েছি; আমাকে এক রাতের মধ্যে বিদেশে নিয়ে ফেলে আসা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই এসব নির্যাতন চালিয়েছেন। যারা ৩৬ দিনের জুলাই আন্দোলন সংগঠিত করেছেন, তাদের বলতে চাই—যারা এই আন্দোলন এবং রাজনীতিকে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে চান, তাদের এ পথে না চলার জন্য অনুরোধ করছি। শেখ হাসিনা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করতে করতে এই জায়গায় পৌঁছেছেন—আপনারা যেন সেই পথে না যান।

সালাউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, যারা ৩৬ দিনের আন্দোলনে ছিলেন, কষ্ট করেছেন, মাঠে থেকেছেন—তাদের বলতে চাই, আজ কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই আন্দোলনকে বিকৃত করতে চাইছে। আমরা যেন সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যে বাংলাদেশ মানুষের প্রত্যাশা ছিল—একটি বৈষম্যহীন, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। যেখানে ন্যায়, নীতি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। আমি এক জায়গায় জিজ্ঞেস করেছিলাম—“শুকরানা কিসের?” তারা বললো—“শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণা হয়েছে, সেই জন্য শুকরানা।” কিন্তু সেখানে একজন বলেছিল—“শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় যদি হাজারবার কার্যকর হয়, তবুও তার সব অপরাধের বিচার পরিপূর্ণ হবে না।”

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি মামলা করেছি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে, রুমিও মামলা করেছে; আরও অনেকে করেছেন। যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তারাও মামলা করেছেন। যদি প্রতিটি মামলার রায় প্রমাণিত হয়, তাহলে সবগুলোর শাস্তি ফাঁসি ছাড়া কিছুই হবে না। কিন্তু যতবার ফাঁসি কার্যকর হোক—শেখ হাসিনার অপরাধ শেষ হবে না। বাকশালের সমস্ত অপরাধনীতি ধ্বংস না করলে এই দেশে স্বৈরাচারী ব্যবস্থাও শেষ হবে না।

শুধু নির্বাচন করে রাষ্ট্রকে সংস্কার করা সম্ভব নয়। গণতন্ত্র মানে হলো—সকল মানুষকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ চালানো। কিন্তু স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে আড়াল হয়ে থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না: ইশরাক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন