জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী দলগুলোকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, জাতীয় পার্টির নামে আওয়ামী লীগ ফেরানের ষড়যন্ত্র চলছে। অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন কমিশনের সংলাপসহ কোনো আলোচনায় জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে রাখা হয়নি। জুলাই সনদের কোথাও জাতীয় পার্টিকে রাখা হয়নি। কিন্তু আমরা শুনছি, নির্বাচনে নাকি জাতীয় পার্টিকে রাখা হবে। এটা একটা চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র। এর বিরুদ্ধে এনসিপি মাঠে থাকবে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে প্রেস ক্লাবে এনসিপির গণমিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। এই রায় প্রতিশোধ নয়, এ রায় ন্যায় বিচারের রায়। জুলাই অভ্যুথানের সাথে প্রতারণা করে কেউ বিচারের সাথে আপস করবেন না। হাসিনার রায় অতি দ্রুত কার্যকর করা হলে দেশের মানুষ ইনসাফ পাবে।
জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পাশাপাশি দল হিসেবেও আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী দলগুলোর বিচার করতে হবে। এ সময় গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত থাকবে, নির্বাচনের আগেই এমন প্রতিশ্রুতি দিতে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ বলেন, ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়কে আমরা শুরুতেই স্বাগত জানিয়েছি। তবে তা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। এতে মানুষ ইনসাফ পাবে। আমরা মনে করি এই রায় কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়; বরং জনগণের ন্যায়বিচার। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস চলবে না।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ভারত সরকার হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমরা আশা করবো, তাকে ফেরত দিয়ে দেশটি বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়বে। আমরা চাই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের মৈত্রী অব্যাহত থাকুক।
তিনি বলেন, বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অনেক কাজে জড়িত ছিল। তাদের বিচারে বর্তমান ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এমন প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ একটি মানবতাবিরোধী দল। কারণ, বিগত দিনে তারা পিলখানা, শাপলা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনে গণহত্যা করেছে। জুলাই আন্দোলনের সময় নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মেরেছে। লাশ পুড়িয়ে ফেলেছে। আয়নাঘরে নির্যাতন করেছে। তাই তাদের বিচার করতে হবে। আমরা শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই। শেখ হাসিনার হিম্মত থাকলে দেশে এসে প্রতিবাদ করুক।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, তাসনূভা জাবিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
পড়ুন : প্রধান উপদেষ্টা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ নাহিদ ইসলামের


