১২/০২/২০২৬, ১৪:৩৫ অপরাহ্ণ
27 C
Dhaka
১২/০২/২০২৬, ১৪:৩৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দর্শনা কেরু শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এতে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ শ্রমিক ও বহিরাগত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, শ্রমিক আব্দুল মোতালেব (৫০), রবিউল ইসলাম (৪৮), বহিরাগত সালাউদ্দিন (৩৫), উজ্জ্বল (৪০), সাইফুল ইসলাম মকুল (৫০), হিরোক (৪৮), রাসেল উদ্দিন টগর (৫০) সহ আরও কয়েকজন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাত থেকেই কেরু ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। নির্বাচন না হওয়া এবং নেতৃত্ব সংকটের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি তৈয়ব আলী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম প্রিন্সের নেতৃত্বে পূর্বঘোষিত নির্বাচনের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ আহ্বান করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ এবং বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে চাইছেন।

সমাবেশ চলাকালে এমডি রাব্বিক হাসান আলোচনার জন্য সাবেক সভাপতি সবুজকে অফিসে ডাকেন। সবুজ তার সমর্থকদের নিয়ে অফিসে প্রবেশ করলে হঠাৎ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে,বহিরাগত কয়েকজন ব্যক্তি অফিস কক্ষে ঢুকে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক মোতালেবের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কেরু ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবন ও আশপাশের এলাকা এক পর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দর্শনা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনা সদস্যদের একটি দলও অভিযানে যোগ দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো কেরু ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করেছি। সেনাবাহিনীও আমাদের সঙ্গে মাঠে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত হলেও আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র ও সংঘর্ষের ঘটনায় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন,দুই পক্ষকে একসাথে বসিয়ে নির্বাচন বিষয়ক আলোচনার জন্যই ডাকা হয়েছিল। কিন্তু অফিসে ঢোকার পর এক পক্ষ হঠাৎ অপর পক্ষের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আমাকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হচ্ছে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শ্রম আইনে ইউনিয়ন নির্বাচনে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সংঘর্ষের পর তৈয়ব-প্রিন্স গ্রুপ কেরুর জেনারেল অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে পুনরায় নির্বাচন দাবিতে স্লোগান শুরু করে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুরো কেরু এলাকা থমথমে পরিবেশের মধ্যে কাটে। শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন,যে কোনও সময় আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পড়ুন:

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন