ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় চাঞ্চল্যকর মর্জিনা বেগম হত্যা মামলায় রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) । হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মর্জিনা বেগম (৪৫) ছিলেন একজন পরিশ্রমী নারী। তিনি আখাউড়া পৌরশহরের সড়ক বাজারে লেবার এবং পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি করতেন। মর্জিনা তাঁর অন্ধ স্বামী ইসমাইল মিয়ার সঙ্গে পৌর এলাকার দেবগ্রাম নয়াবাজারে ভাড়া থাকতেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৩টায় একটি অজ্ঞাতনামা নম্বর থেকে মর্জিনার মোবাইলে ফোন আসে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরদিন সকালে মর্জিনার খোঁজ না পেয়ে তাঁর মেয়ে রহিমা আক্তার আশপাশে খুঁজতে থাকেন। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আখাউড়া পৌরসভা কার্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের পাশে মর্জিনা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, গ্রেফতারকৃত আসামি শহিদুল ইসলাম, হোসেন, শফিক ও রুমান মিয়া পরিকল্পিতভাবে মর্জিনা বেগমকে ধর্ষণ এবং হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। ঘটনার সময় তারা ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে গলায় চাপ দিয়ে হত্যা করেন এবং পরে লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যান।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিটের ইনচার্জ পুলিশ সুপার শচীন চাকমা এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ আল-আমিনের নেতৃত্বে ২৬ নভেম্বর তাদের গ্রেফতার হন। তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পিবিআই আরও জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামিদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় পুলিশ এবং তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করেছেন।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পিবিআই তৎপর রয়েছে বলে আরো জানান।
পড়ুন- মাগুরা-২ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের পক্ষে নির্বাচনী পথসভা


