টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে লুৎফর রহমান মতিনকে বিএনপি’র মনোনয়ন দেয়ায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে লুৎফর রহমান মতিনের নির্বাচনী প্রচারণায় ৩ মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ওয়ারেন্ট ভুক্ত এক আগামীকে প্রকাশ্য অংশ করতে দেখা গেছে। এমনটি বিএনপি’র প্রার্থী মতিনের পাশেই একই মঞ্চেও বসতে দেখা যায় ওয়ারেন্টে ভুক্ত আসামী মোজাম্মেল হক হিরুকে। এভাবে বিএনপি’র প্রার্থীর প্রচারণায় প্রকাশ্যে ৩ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী অংশ নেয়া বিএনপি’র দলীয় নেতা-কর্মীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। মোজাম্মেল হক হিরু কালিহাতী উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মোজাম্মেল হক হিরুর নামে টাঙ্গাইল আদালত থেকে প্রথমে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মারামারি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরবর্তীতে চেক জালিয়াতি মামলায় ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর আদালত মামলায় এবং গত বছরের ২২ জানুয়ারী মারামারি মামলায় টাঙ্গাইল আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে হাজিরা না হওয়ায় হিরুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মোজাম্মেল হক হিরুর নামে ৩টি মামলায় গ্রেপ্তারের ওয়ারেন্ট হলেও তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি কালিহাতী আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর বিভিন্ন প্রচারণা ও অনুষ্ঠানে মোজাম্মেল হক হিরুকে দেখা যাচ্ছেন। সেখানে তিনি বক্তব্যও রাখছেন। কিন্ত থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে না। যার ফলে উপজেলা জুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়- বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিএনপি’র মনোনিত প্রার্থী হয়েও ৩ মামলার গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হয়ে এভাবে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো প্রশ্নবিদ্ধ? লুৎফর রহমান মতিন এসব আসামীদের সরাসরি আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিচ্ছেন। যার ফলে জনসাধারণ ও ভোটারদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সম্প্রতি লুৎফর রহমান মতিনের সাথে মোজাম্মেল হক হিরুর নির্বাচনী প্রচারণার বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বিএনপি’র নেতারা বলেন, বিএনপি’র মনোনিত প্রার্থী ত্যাগী নেতারে মূল্যয়ণ না করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের মূল্যয়ণ ও প্রশ্রয় দিচ্ছেন। যার ফলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোন্দল দেখা দিয়েছে। বিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রফিক ইসলাম বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীকে নিয়ে লুৎফর রহমান মতিনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো ঠিক হচ্ছে না। এতে দলের ইমেজ সংকট হচ্ছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে এসব ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীকে গ্রেপ্তারের দাবি করছি।
উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মজনু মিয়া বলেন, একজন ওয়ারেন্ট ভুক্ত আগামী প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মঞ্চে দিবালোকে ঘুরতে পারে না। আইন সবার জন্য সমান। এতে দলের যাতে ভাবমূতি নষ্ট না হয় বিষয়টি নজর রাখতে হবে।
এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত হিরো আমাদের জামিননামা দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা যাচাই বাছাই করছি।
অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক হিরুর মোবাইল নাম্বার যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।
পড়ুন- চুয়াডাঙ্গায় বোমা, দেশীয় অস্ত্র ও হরিণের চামড়াসহ তিনজন গ্রেফতার
দেখুন- কড়াইল অ/গ্নি/কা/ন্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা দিন কাটাচ্ছে খোলা আকাশের নিচে |


