১৪/০১/২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সালথায় বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে শুক্রবার ভোর থেকে টানা পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ২০টির বেশি দোকানপাট ও বসতবাড়িতে ভাঙচুর–লুটপাট এবং গবাদিপশুসহ মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

শনিবার ভোর ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত গট্টি ইউনিয়নের বালিয়াগট্টি বাজার এলাকায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খাইরুল বাসার আজাদ ও তার ভায়রা জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরু মাতুব্বরের সমর্থকদের ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ চলে।

সংঘর্ষে দু’পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, নুরু মাতুব্বরের গ্রাম দলের জামায়াত–সমর্থক ওমর ফারুকের খামার থেকে প্রায় ১৪–১৫ লাখ টাকা মূল্যমানের পাঁচটি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আজাদ গ্রুপের বিরুদ্ধে। ওমর ফারুক বলেন, ভোরে খাইরুল বাসার আজাদ ও জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায় এবং আমার খামার থেকে পাঁচটি গরু লুট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে খন্দকার খাইরুল বাসার আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমি কোনো পক্ষ করি না। মূল বিরোধটি নুরু মাতুব্বর ও আমার ভায়রা জাহিদ মাতুব্বরের দীর্ঘদিনের শত্রুতাকে কেন্দ্র করে। তবে জাহিদ মাতুব্বরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সালথা থানার ওসি (তদন্ত) কেএম মারুফ হাসান রাসেল জানান, সকালেই সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পুলিশের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই গট্টি ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া নিয়ে জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়। উভয় নেতা পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর তারা বিএনপিতে যোগ দেন এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে এই বিরোধের জেরে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। শনিবারের সংঘর্ষ একসময় বালিয়াগট্টি বাজার, কাঠিয়ার গট্টি, বালিয়া গট্টি গ্রামসহ অন্তত ২০টির বেশি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে, এর মধ্যে বালিয়া গট্টি, আড়ুয়াকান্দী, ঝুনাখালি, মেম্বার গট্টি, ভাবুকদিয়া, সিংহপ্রতাব, কানুইর, দিয়াপাড়া, জয়ঝাপ, আগুলদিয়া ও মোড়হাট উল্লেখযোগ্য। হাজারো মানুষ দেশীয় অস্ত্র-ঢাল, কাতরা, টেটা ও ভেলা নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেয়। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, আতঙ্কে নারী ও শিশুরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি করে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর–লুটপাট করা হয়েছে। ওমর ফারুকের পাঁচটি গরু লুটের বিষয়েও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা ও উপজেলা পরিষদে বিক্ষোভকারীদের হামলা-ভাঙচুর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন