২০/০২/২০২৬, ১৩:৫৪ অপরাহ্ণ
28 C
Dhaka
২০/০২/২০২৬, ১৩:৫৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আটোয়ারিতে সার ডিলার ও কৃষি অফিস সিন্ডিকেটে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, কৃষকেরা জিম্মি

বাংলাদেশ খাদ্য শস্য উৎপাদন করে যখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনি বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে খোদ কৃষি অফিস।

বিজ্ঞাপন

নিজেই সিন্ডিকেট তৈরি করে সুবিধা নিয়ে কৃষকদের করছেন নিঃস্ব। এমনিই অবস্থা পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারি কৃষি অফিসের। সিন্ডিকেটের কারনে আটোয়ারি উপজেলা কৃষকেরা পাচ্ছে না সরকারের দেওয়া সার, সরকারি সার সিন্ডিকেটের কারনে কৃষকদের কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দামে এজন্য বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ। লাভবান হচ্ছে কর্মকর্তা ও মুনাফা খোর ব্যবসায়ীরা।


পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বিসিআইসি ও বিএডিসির সার ডিলার ও কৃষি অফিস সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কৃষক। নির্ধারিত বাজারে কোন সার ডিলারের দোকান নাই, এক এলাকার লাইসেন্স, ভাড়ায় চলে অন্য এলাকায়। জেলার বাইরের বাসিন্দাকেও দেওয়া হয়েছে সার ডিলার নিয়োগ। সিন্ডিকেটে কৃষি কর্মকর্তারা জড়িত থাকায় তাদের ওপর কােন নজরদারি করা হয়নি।বরং নীরবে চলছে কৃষি খাতে সিন্ডিকেট, জিম্মি হচ্ছেন কৃষকেরা।এ থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ,সার ডিলারের নির্ধারিত বাজারে দোকান না থাকায় যেতে হয় ১০-১২ কিলোমিটার দুরে।সেখানে সার ক্রয় করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন তারা।কৃষকেরা ডিলারদের কাছে গিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী,আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের পাল্টাপাড়ায় মেসার্স রাইসা ট্রেডার্স এর সার দোকান হওয়ার কথা থাকলেও তার দোকানটি সেখানে পাওয়া যায়নি।অভিযোগ রয়েছে লাইসেন্সটি ভাড়া দিয়েছেন ফকিরগঞ্জ বাজারের মেসার্স আব্দুর রহমানের কাছে।সেখান থেকেই নিয়ন্ত্রন হয় দীর্ঘদিন ধরে। এভাবে মেসার্স সানজিদা ট্রেডার্স নামের লাইসেন্সটি ফকিরগঞ্জ বাজারের মেসার্স বকুল ট্রেডার্স এর দোকান থেকে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। এভাবে মেসার্স জয় এন্টারপ্রাইজ চলছে ছোটদাপ এলাকার মেসার্স খলিলুর রহমানের কাছে। মেসার্স জননী কৃষি বিতান বটতলী বাজারে দোকান থাকার কথা কিন্তু তার দোকান বোদা বাজারে। যদিও তাদের দাবী সেটা আটোয়ারী উপজেলায় রয়েছে।তবে এ ডিলারের প্রোপাইটর মেরাজুল ইসলাম তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের দ্বারাজগাঁও এলাকায়। শুধু মেরাজুল না রাণীগঞ্জ বাজারের ডিলার মেসার্স প্রতীক ট্রেডার্স এর প্রোপাইটর হুসেন আলী মিয়ার বাড়িও ঠাকাুরগাঁও জেলার ঢোলারহাট এলাকায়।

সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯ এ বলা আছে, জেলার বাইরের কোন বাসিন্দাকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবেনা।এছাড়া আরো বলা হয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতিত অন্য কোন কারণে ডিলারশীপ হস্তান্তর যোগ্য হবে না।

উপজেলার বিসিআইসি ও বিএডিসির মোট ৩১ টি সার ডিলার লাইসেন্স থাকলেও নির্ধারিত স্থানে হাতে গোনা কয়েকজন ডিলার ছাড়া, বাকি সব ডিলারের দোকান উপজেলার ফকিরগঞ্জ বাজারে।
এতে সার পেতে ভোগান্তিসহ কৃষককে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। পাল্টা পাড়া এলাকার কৃষক সফিকু্ল ইসলাম বলেন,এ বাজারে কয়েকজন সার ডিলার থাকার কথা থাকলেও কেউ নাই। সার আনতে হয় ফকিরগঞ্জ, রুহিয়া, লাহিড়ী বাজার থেকে।এতে বস্তায় প্রায় ৪০০-৫০০ টাকা বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে।

তৌহিদ বলেন, লীলার মেলা বাজারে আব্দুল্লাহ এন্টার প্রাইজ ও মেসার্স ভাইবোন ট্রেডার্স নামে দুইজন সার ডিলারের দোকান থাকার কথা কিন্তু এখানে কোন দোকান নাই। সম্প্রতি আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের সার উত্তোলন করে ট্রাকটি লীলার মেলা বাজারে আসে।কিন্তু সার না দিয়ে ফকিরগঞ্জ বাজারের দিকে চলে যায়।

অভিযুক্ত মেসার্স জননী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মেরাজুল ইসলাম জানান, তার ভোট ঠাকুরগাঁও এলাকায় তবে তিনি আটোয়ারীতে হোল্ডিং টেক্স প্রদান করেন। প্রতিক ট্রেডার্স এর প্রোপাইটর হুসেন আলী মিয়া তার বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেন। রাইসা, সানজিদা ও জয় এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও অন্য ডিলারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি স্বীকার করেন।

আটোয়ারী উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে অফিসার মোস্তাক আহমেদকে না পেয়ে, দুইদিনে মুঠোফোনে বারবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন নিজে সার তদারকির দায়িত্বে আছেন বললেও মন্তব্য করবেন না বলে জানান।

পড়ুন- দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নবরূপীর আয়োজনে সঙ্গীত সন্ধ্যা

দেখুন- আমাদের নগরে একজন আনিসুল হক ছিলেন! |

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন