খুলনায় দিনে দুপুরে আদালত চত্বরে দুই খুনের পর রাতে আরও এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই দিনে দুই ঘটনায় শহরের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে নগরের জিন্নাহপাড়া এলাকায় সম্রাট কাজী (২৮) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার বাঁ হাতে লাগে। তিনি বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
লবণচরা থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে ফজলে রাব্বি রাজন ও হাসিব হাওলাদার নামে দুইজনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, নিহত দুজনই ‘সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের’ সহযোগী ছিলেন এবং আড়াই মাস আগে জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হন।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৬ মাসে খুলনা মহানগরে ৪৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শুধু চলতি নভেম্বরে খুন হয়েছে ছয়জন। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় ব্যবহার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র বা ধারালো অস্ত্র। এ সময় আহত হয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ।
গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে বেরিয়ে আসা অপরাধী ও দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীরা এলাকায় ফিরে সংগঠিত হয়েছে। তারা মাদক বেচাকেনা, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও সশস্ত্র মহড়াসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
মহানগরের পাশাপাশি উপজেলাগুলোতেও খুনের ঘটনা বাড়ছে। জেলা পুলিশের তথ্যে জানা যায়, চলতি বছরে পুরো জেলায় ৪৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনকে গুলি বা কুপিয়ে হত্যা করা হয়। রূপসা উপজেলায় গত দুই মাসে পাঁচ খুনের চারটিতেই গুলি ব্যবহার করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে পাইকগাছা উপজেলার খেরসা ব্রিজের কাছে নৌপুলিশ উদ্ধার করে নিখোঁজ যুবক দীনেশ দাসের (২২) মরদেহ। তিনি ২৬ নভেম্বর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, “শহরে একের পর এক টার্গেট কিলিং হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়।”
অন্যদিকে খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান দাবি করেন, “বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অনেক ঘটনা মাদক বা পারিবারিক বিরোধ থেকে ঘটেছে।”
অতিরিক্ত কমিশনার (দক্ষিণ) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।
পড়ুন- চট্টগ্রামের অক্সিজেনে বস্তিতে আগুন
দেখুন- কেন নষ্ট হচ্ছে দেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি? |


