ঝিনাইদহের পাঁচ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যা সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। মহেশপুর, হরিণাকুন্ডু, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট শয্যা সংখ্যা ২৫০ টি। অথচ গড়ে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হয় প্রায় ৩৫০ জন। সীমিত শয্যা সংখ্যার কারণে ভর্তি হওয়া রোগীদের সেবা দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৫০ টি। প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন গড়ে ৪০০-৫০০ জন। এর মধ্যে অনেক রোগীর ভর্তির প্রয়োজন হয়। একটি শয্যার বিপরীতে অন্তত দুইজন রোগী ভর্তির চাহিদা থাকে। প্রায় সব সময়ই ২৫-৩০ জন ভর্তি রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। ঠিক একই অবস্থা অন্যান্য উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও।
কয়েকদিন আগে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসেন ছবুরা বেগম। শয্যা না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। ছবুরা বেগম বলেন, ‘এই শীতের রাতে মেঝেতে থাকছি। খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু বেডে জায়গা নাই।‘
চিকিৎসা নিতে আসা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান অনেক খারাপ। নার্স আছে তো ডাক্তার আসেন না। ঠিকমতো ওষুধও থাকে না। হাসপাতালে ভর্তির দরকার হলে সিট পাওয়া যায় না। মেঝেতে থাকা লাগে।‘
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবিকা মমতা বলেন, ‘রোগীর চাপ অনেক বেশি থাকলে আমরা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাই। অনেক সময় শয্যার তুলনায় বেশি রোগীকে ভর্তি করা লাগে। তখন মেঝেতে থাকা ছাড়া তো আর কোন উপায় থাকে না।‘
তবে এ বিষয়ে এখনো কর্তৃপক্ষ কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের বেড বাড়ানোর কোনো এখতিয়ার নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালের বেড বাড়ানোর পদক্ষেপ নিলে জেলাবাসীর জন্য উপকার হবে।‘ তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে লোকবল কম থাকার কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়। সরকার যদি লোকবল সঠিকভাবে পূরণ করে তাহলে চিকিৎসার মান আরো ভালো হবে বলে আশা করছি।
পড়ুন- রংপুরে বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণে অংশগ্রহণ করেননি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা


