১১/০২/২০২৬, ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১১/০২/২০২৬, ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

হায় হায় কোম্পানি ডিএমসিবি: সাবেক সেনাদের ব্যবহার

অনুমোদন ছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে জনগণের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ডিএমসিবির বিরুদ্ধে। নীতি-নির্ধারণীমহলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে নিয়মিত করে যাচ্ছে আইনের লঙ্ঘন। সাবেক সেনা সদস্যদের ব্যবহার করে জনগনের সঙ্গে করা হচ্ছে প্রতারণা। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও রয়েছে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ। ডিএমসি ব্যাংক নিয়ে সানি আহম্মেদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আজ পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে ‘হায় হায় কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ মানুষের টাকা লুটে নেয়ার সুবিধা হলো, চম্পট দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের খবর কেউ জানে না৷ চটকদার বিজ্ঞাপনে ইউনি পে টু ইউ, ভিশন-২০২০ থেকে শুরু করে বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানি মানুষদের করেছে নিঃস্ব।

তেমনিভাবে আইন লঙ্ঘন করে ব্যাংকিং কর্মকান্ড চালিয়ে জনগনের কাছ থেকে দ্য ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক ডিএমসি ব্যাংক অর্থ সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালতে করা হয়েছে মামলা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিষ্টার এম. সরোয়ার হোসেন জানান, দ্য ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড একটি হায় হায় কোম্পানি। গ্রাহকদের উচ্চ সুদের লোভ দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করে তা পাঁচার করছে।

আদালত সূত্র বলছে, ডিএমসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু জাফর চৌধুরী অধিক ইন্টারেষ্টের ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের টাকা মানি লন্ডারিং করছে। আর সাধারণ মানুষের টাকা লুট করে কানাডায় করেছেন বাড়ি। চড়েন স্পেশাল ফ্লাইটে।

ল্যাফটন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান নামে একজন সুনামধারী অফিসারও তার অ্যাডজাইজর হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া আরো বেশকিছু সেনাসদস্যকে অত্যধিক বেতন, নানা সুবিধা, গাড়ি দিয়ে তার কোম্পানীতে কাজ করানো অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এই অফিসারদের ব্যবহার করে ইন্টিলিজেন্টস অর্গানাইজেশনের বিভিন্ন কাজও করানো হয় বলে জানা গেছে। সমবায় অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রনালয় ম্যানেজ করার কাজেও তাদের ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যাতে ডিএমসি ব্যাংকের কোন কাজে বাধা না আসে।

এ ব্যাপারে ব্যারিষ্টার এম. সরোয়ার হোসেন আরও জানান, ব্যাংকটির কার্যক্রমে যেন কোন বাধা না আসে সেজন্য সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের এখানে বিপুল সুবিধা দিয়ে চাকরি দিয়েছে। তাদের দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, সমবায় অধিদপ্তর, অর্থ মন্ত্রনালয় বিভিন্ন জায়গায় ম্যানেজের কাজ করানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাসোয়ারা নিচ্ছেন। দায়িত্ব অবহেলার কারণে নীতি নির্ধারণী মহলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও আইনের আওতায় আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন এই আইনজীবী।

এদিকে জনগনের অর্থ নিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কক্সবাজারে রয়েছে বিশাল হোটেল ও রিসোর্ট। তবে এ ব্যাপারে কয়েকবার যোগাযোগ করে তাদের মন্তব্য জানতে চাইলেও কেউ কোন মন্তব্য করেননি।

দেখুন: হায় হায় কোম্পানি ডিএমসিবি: সাবেক সেনাসদস্যদের ব্যবহার | Nagorik TV

আরও দেখুন: ব্যাংক না হয়েও ব্যাংকের নামে হাজার কোটি টাকা পাচার! | Nagorik TV

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন